প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 14 December 2024 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। বুধবার মায়ের মৃত্যু হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বাবা ও মেয়ে। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার তাঁরাও প্রাণ হারান। কলকাতার নরেন্দ্রপুরের রায় পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণ উঠে আসছে পুলিশের হাতে।
স্থানীয় এক যুবকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবার। যা ঘিরে রহস্য বেড়েই চলেছে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক নিজেই বাইক দুর্ঘটনায় কোমায় চলে যাওয়ার কারণে রহস্যের কিনারা করতে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় পুলিশের।
জানা গেছে নরেন্দ্রপুরের রায় পরিবারের যে তিন সদস্য আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁরা হলেন জলি রায় (৫৫), তাঁর স্বামী দীপক রায় (৬৩) এবং তাঁদের একমাত্র মেয়ে দিশারী রায় (২৩)। স্থানীয় সূত্রে খবর, রায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল। যার জেরে স্নাতক স্তরে প্রথম বর্ষের পরই পড়াশোনা ছেড়ে দেন দিশারী। মাঝখানে বেশ কিছুদিন একটি শপিং মল এবং পরে একটি ব্যাঙ্কে কিছুদিন কাজ করেন তিনি।
বিপদের সময় সাহায্য করতে রায় পরিবারের সদস্যদের এক ভয়ঙ্কর ফাঁদে ফেলেন দেবব্রত বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক যুবক। অভিযোগ দিপকবাবুর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে কোনও বেআইনি লেনদেন চালাতেন দেবব্রত। টাকা পাওয়ার আশায় দেবব্রতর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান রায় পরিবারের সদস্যরা। উপরন্তু, সেই বেআইনি টাকার বেশ খানিকটা অংশ তাঁরা খরচও করে ফেলেন। সম্প্রতি দিল্লির কোনও একটি সাইবার ক্রাইম থানা থেকে রায় বাড়িতে ফোন আসে। আর্থিক জালিয়াতির মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদের গত ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। তারপরই অভাব ও সম্মানহানির ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনজন।
পরিবারের সদস্যদের লেখা সুইসাইড নোট দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে স্থানীয় বাসিন্দা দেবব্রতই গোটা ঘটনার জন্য দায়ী। বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে দেবব্রত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে কোমায় রয়েছে সে। সে কারণেই তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা তদন্তকারীদের।
এছাড়া ফোনটা কোথা থেকে কী কারণে করা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ডিজিট্যাল অ্যারেস্টের বিষয়টাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিশারীর মাসি জানান, বুধবার রাতেই বাবা-মাকে প্রচুর পরিমাণ ঘুমের ওষুধ খেতে দেন ওই তরুণী। তারপর নিজেও অনেকগুলি ঘুমের ওষুধ খান। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, ওষুধে পুরোপুরি কাজ হয়নি। এরপর নিজের হাতের শিরা কেটে ওই অবস্থাতেই বাবা-মায়ের বিছানার পাশে বসে থাকেন তিনি।
এই সময়েই দিশারীর মাসি তাঁদের বাড়িতে আসেন। ওই আত্মীয়ার দাবি, সেদিন দিশারীই দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং মাসিকে সব জানিয়েছিলেন। এরপর দিশারী ও তাঁর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কারণ, দিশারীর মায়ের আগেই মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু, বৃহস্পতিবার দীপক ও দিশারীরও মৃত্যু হয়।