পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়া মিছিল করায় আইন ভঙ্গ হয়েছে। ফলে কেন এই পদক্ষেপ করা হল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়াই তলবের মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তাররা - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ১৪ অক্টোবরের ঘটনায় ফের নড়েচড়ে বসল পুলিশ (Kolkata Police)। হেয়ার স্ট্রিট থানায় তলব করা হয়েছে আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) প্রতিবাদী তিন চিকিৎসক - আসফাকুল্লা নাইয়া (Asfakullah Naiya), দেবাশিস হালদার (Debasish Halder) ও অর্ণব মুখোপাধ্যায়কে (Arnab Mukherjee)। অভিযোগ, পুলিশি অনুমতি না নিয়েই ওই দিন মিছিলের আয়োজন করেছিলেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, বিশেষ করে চিকিৎসক দেবাশিস হালদারকে ইতিমধ্যেই চারবার সমন পাঠিয়েছে পুলিশ। আগামী ৯ এবং ১১ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট দিনে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বাকি দুই চিকিৎসককেও তদন্তের স্বার্থে তলব করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়া মিছিল করায় আইন ভঙ্গ হয়েছে। ফলে কেন এই পদক্ষেপ করা হল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়াই তলবের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে ৮ অক্টোবর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (Calcutta Medical College) থেকে ধর্মতলা (Esplanade) পর্যন্ত মিছিলের আয়োজনের জন্য সিনিয়র চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী (Subarna Goswami) ও মানস গুমটাকে (Manas Gumta) হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ ছিল, এই কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া মিছিল করার অভিযোগেই মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই দুই চিকিৎসককে তলব করা হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলায় নোটিস পাঠানোর অভিযোগ অনেক আগেই তুলেছেন আরজি করের প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, FIR-এ জামিন অযোগ্য ধারায় মিথ্যা অভিযোগ, এমনকী মহিলা পুলিশের শ্লীলতাহানির অভিযোগও জুড়ে দেওয়া হয়েছে!
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে টানা আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের ভিতরে নিরাপত্তা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই গত বছর অক্টোবর মাসে একাধিক মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
চিকিৎসক মহলের অভিযোগ, আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করতেই এই ধরনের নোটিস জারি করছে পুলিশ। তাঁদের বক্তব্য, মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়েই আন্দোলন হয়েছিল। তাই এইসব মামলাকে তাঁরা ‘প্রশাসনিক চাপ’ বলেই মনে করছেন।