
প্রসূন দে
শেষ আপডেট: 4 March 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ট্যাংরা কাণ্ডে (Tangra Triple Death) গ্রেফতার করা হয়েছিল দে পরিবারের ছোট ভাই প্রসূনকে। মঙ্গলবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে (Sealdah Court) পেশ করা হয়। বিচারক প্রসূনকে ২ দিনের (৬ মার্চ পর্যন্ত) পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে আদালতে প্রসূন জানিয়েছেন, তিনি কোনও আইনজীবী চান না।
শিয়ালদহ আদালতে প্রসূনকে হাজির করানো হলে বিচারক লক্ষ্য করেন তাঁর সঙ্গে কোনও আইনজীবী নেই। রাজ্যের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়, প্রসূন কোনও আইনজীবী রাখতে চান না। বিচারক নিজে তাঁর থেকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসূন স্পষ্ট করে ঘাড় নাড়িয়ে বুঝিয়ে দেন, তিনি চান না তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবী লড়ুন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে পুলিশের আর্জি ছিল, প্রসূনকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজত দেওয়া হোক। কারণ তাঁকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। তাঁদের আর্জি মানলেও ২ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। প্রসূন পুলিশের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তবে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বড় ভাই প্রণয়ও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কিনা, সে বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত নয় পুলিশ। সেক্ষেত্রে প্রণয় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে তাঁকেও গ্রেফতার করবে পুলিশ। পরে দুজনকেই হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
এর আগে আহত নাবালকও শিশু সুরক্ষা কমিশনের কাছে দাবি করেছিল যে, কাকাই খুন করেছে। তাঁকে মারতে এলে সে মরার ভান করে পড়েছিল। বড় ভাই প্রণয়ও আগে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, হাত কাটার ভাবনা তাঁর ভাইয়েরই ছিল। তিনি নিজে ভয়ে কাটতে পারেননি। এখন ঘটনার জল যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে, প্রসূনই এই কাণ্ডের মূল কাণ্ডারি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে ইএম বাইপাসে অভিষিক্তা মোড়ের কাছে দুর্ঘটনায় জখম হয় প্রণয়, প্রসূন ও প্রণয়ের ছেলে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ এরপরই সামনে আসে অতুল শূর রোডে দে পরিবারের বাড়িতে দুই বধূ ও মেয়ের দেহ পড়ে রয়েছে। তারপর থেকে অনেক জটিল হয়েছিল রহস্য। প্রথমে প্রসূন পুলিশকে জানিয়েছিলেন স্ত্রী এবং বৌদি নিজেরাই হাত কেটেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সে নাকি স্বীকার করেছে যে, হাত কেটে তিনজনকে খুন নিজেই করেছে সে! ওই স্বীকারোক্তির জেরেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রসূনকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।