
ট্যাংরা কাণ্ডে খুন।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 10:48
তদন্তে জানা যাচ্ছে, দে পরিবার একসময় কলকাতার অভিজাত ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর একটি ছিল। তাদের পারিবারিক চামড়ার ব্যবসা বহু বছর ধরে লাভজনক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধাক্কা খায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, বাজারের মন্দা এবং নিজেদের অতি বিলাসবহুল জীবনযাপন তাদের আর্থিক অবস্থা তলানিতে ঠেলে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাই ছ'টি ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, যা ধীরে ধীরে ১৫-২০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এদিকে ব্যবসায় ক্ষতি সামাল না দিতে না পেরেও তাঁরা বিপুল খরচ চালিয়েই যায়। বিলাসবহুল বিদেশভ্রমণ, দামি গাড়ি কেনার প্রবণতা বাড়তেই থাকে। খরচের বহর এবং দেনার চাপ সামলাতে নতুন নতুন ঋণ নেওয়ার পরেও যখন আর উপায় থাকছে না, তখনই সম্ভবত তাঁরা এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে চূড়ান্ত সে সিদ্ধান্তের একটা অংশ ফলপ্রসূ হলেও, অর্থাৎ প্রণয়-প্রসূনের স্ত্রী কোনি ও সুদেষ্ণা এবং নাবালিকা মেয়ে প্রিয়ম্বদা মারা গেলেও, প্রণয় ও প্রসূন দু'জনেই গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন। বেঁচে গেছে তাঁদের নাবালক ছেলেও। বর্তমানে প্রণয় এনআরএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, প্রসূনেরও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কথা। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তাঁদের পরিবার বা আত্মীয়-স্বজন কেউই এখনও পর্যন্ত তাদের দেখতে আসেনি। এমনকি আত্মীয়স্বজনরা কেউ নাবালক ছেলেটির দায়িত্ব নিতেও রাজি নয়। ফলে তাকে সরকারি হোমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ।
অন্যদিকে, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে, দুই ভাই সুস্থ হওয়ার পরে, তাঁদের নিয়ে ট্যাংরার বাড়িতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। বাড়ির ভিতরে থাকা সাতটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ ১২ জানুয়ারির পর থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে যেন অঙ্কের শেষ ধাপে এসে দাঁড়িয়ে আছে গোটা তদন্ত। টাকা, ঋণ, পাওনাদারের চাপ— এ সব কিছু মিলিয়েই কি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দে পরিবার? নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে? প্রশ্ন এখন এটাই।