ট্যাংরার সেই রক্তাক্ত রাতের কথা খুলে বলল বেঁচে যাওয়া ছেলেটি, কাকা প্রসূনই মেরেছেন তিনজনকে
প্রতীপ জানিয়েছে, ট্যাংরার দে পরিবারের দুই বধূ রোমি দে ও সুদেষ্ণা দে এবং ১৪ বছরের কিশোরী প্রিয়ম্বদাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রসূন দে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পর প্রণয় ও প্রসূন তাকে নিয়ে বের হয়। তবে বুধবার ভোরে বাইপাসের ধারে তাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরার দে পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত কিশোর প্রতীপ দে পুলিশের কাছে বয়ান দিয়েছে। তার দাবি, তার মা, কাকিমা এবং দিদিকে খুন করেছে কাকা প্রসূন দে। এর আগে দাদা প্রণয় দেও একই দাবি করেছিল। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় প্রণয়েরও ভূমিকা থাকতে পারে।
প্রতীপ জানিয়েছে, ট্যাংরার দে পরিবারের দুই বধূ রোমি দে ও সুদেষ্ণা দে এবং ১৪ বছরের কিশোরী প্রিয়ম্বদাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রসূন দে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পর প্রণয় ও প্রসূন তাকে নিয়ে বের হয়। তবে বুধবার ভোরে বাইপাসের ধারে তাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রিয়ম্বদার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দেখে মনে হচ্ছে, তাকে জোর করে ঘুমের ওষুধ মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছিল। কিশোর প্রতীপও দাবি করেছে, সে কিছুতেই পায়েস খেতে চাইছিল না, কারণ সে বাবা-কাকার পরিকল্পনার কথা জেনে গিয়েছিল। এরপর তাকে মারধর করে জোর করে খাওয়ানো হয়।
ময়নাতদন্ত বলছে, রোমি এবং সুদেষ্ণার মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে। তদন্তকারীদের মতে, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের হাতের শিরা ও গলার নলি কেটে দেওয়া হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী প্রসূন একাই নাকি তাঁর দাদাও, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত চলছে।
সোমবার কিশোর প্রতীপ দে-কে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে। প্রসূন দে-ও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবে শীঘ্রই। তবে এরপর তাদের কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের সন্দেহ, দুই ভাই একসঙ্গে পরিকল্পনা করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ হলে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পুরো ঘটনা পুনর্গঠনের জন্য তাদের ট্যাংরার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হতে পারে।