কলকাতার বেকবাগানের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশে ময়মনসিংয়ের অর্থাৎ দীপু চন্দ্র দাসের ঘটনার তুলনা টেনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনুস এবং পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 23 December 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে উত্তাল হওয়া বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) খুনের ঘটনা আরও তোলপাড় ফেলেছে। এরই প্রতিবাদ মঙ্গলবার ভারতের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখায়। দিল্লি (Delhi), হায়দরাবাদ (Hyderabad), জম্মুর (Jammu Kashmir) পাশাপাশি কলকাতার (Kolkata) রাস্তাতেও একই ছবি ধরা পড়ে। তবে এই কর্মসূচি ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিছিল আটকাতে পুলিশের লাঠিচার্জে (Police Lathicharge) রক্ত ঝরে বলেও অভিযোগ। সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনারই কড়া সমালোচনা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কলকাতার বেকবাগানের (Kolkata Beckbagan) ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশে ময়মনসিংয়ের অর্থাৎ দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) ঘটনার তুলনা টেনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus) এবং পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। দুজনেই এক, দুজনের লক্ষ্যও এক। পাশাপাশি তাঁর এও সংযোজন, কলকাতায় মমতার পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাদের মেরেছে তার পিছনে কোনও 'হিডেন এজেন্ডা' (Hiden Agenda) রয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, বেকবাগানে একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পুলিশ কার্যত অত্যাচার করেছে। তাঁর কটাক্ষ, এই ঘটনায় প্রমাণ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইউনুসের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বড় সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, এই পুলিশের মধ্যে একটা বড় অংশ ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেট (OBC Certificate) নিয়ে তৃণমূলের জমানায় চাকরি পেয়েছে। তাই দলের কথায় এই আচরণ করছে।
বাংলাদেশের ঘটনার সঙ্গে সামশেরগঞ্জের (Samsergunj) ঘটনার তুলনা করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা। সাফ কথা - এপারে হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস আর ওপারে দীপু চন্দ্র দাস। শুধু জায়গাটা আলাদা। ক্ষোভের সুরে শুভেন্দু এও বলেন, এই সরকার শুধু হিন্দু বিরোধী সরকার নয়, জনগণের করের টাকায় মুসলিম লীগে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতায় বাংলাদেশের উপ দূতাবাসের (Bangladesh High Commission) সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরেই পুলিশি ধস্তাধস্তি হয়। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে ভারত। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সে দেশের সংখ্যালঘুদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও।
মঙ্গলবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বেশ কয়েক জন হিন্দুত্ববাদী নেতা। তাদের কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। মিছিলকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “এহেন আচরণ রাজ্য পুলিশের নয়, বরং যেন বাংলাদেশি পুলিশের। সন্ন্যাসীদের উপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে, প্রতিবাদী মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠছে।”