সোমের পর মঙ্গলবার শঙ্খধ্বনি, ত্রিশূল হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিছিল আটকাতে পুলিশের লাঠিচার্জে রক্ত ঝরল বলে অভিযোগ।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 23 December 2025 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে দীপুচন্দ্র দাসকে নৃশংস ভাবে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে প্রতিবাদ চলছেই (Bangladesh News)। বাংলাদেশ তো বটেই, দিল্লি, হায়দরাবাদ, জম্মুর পাশাপাশি কলকাতার রাস্তাতেও (Kolkata News) নেমেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। সোমের পর মঙ্গলবার শঙ্খধ্বনি, ত্রিশূল হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিছিল আটকাতে পুলিশের লাঠিচার্জে রক্ত ঝরল বলে অভিযোগ। অসুস্থও হয়ে পড়েছেন বহু বিক্ষোভকারী।
মঙ্গলবার শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের দফতর (Bangladesh Deputy High Commission)। কিন্তু বেকবাগানে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায় মিছিল। সেখানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, লাঠিচার্জে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হিন্দুত্ববাদী নেতা লালবাবা। এর পর একে একে বেশ কয়েক জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
Regarding the incident at Beckbagan, several misleading claims are being circulated on social media. Assertions that the protest was entirely peaceful and that police action was unprovoked are incorrect. pic.twitter.com/zlo8urNviL
— DCP SED Kolkata Police (@KPSoutheastDiv) December 23, 2025
মিছিলকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “এহেন আচরণ রাজ্য পুলিশের নয়, বরং যেন বাংলাদেশি পুলিশের। সন্ন্যাসীদের উপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে, প্রতিবাদী মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন রাজধানী দিল্লিতেও পথে নামে হিন্দু মহাসভা। সেখানে দিল্লি পুলিশ মিছিল আটকে দেয় বলে জানা গিয়েছে।
এ দিকে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহে গণপিটুনিতে দীপুচন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার ঢাকায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সামনেও বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদে এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায়— দু’দেশেই ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ ও আন্দোলনের সুর।
বস্তুত, ক'দিন আগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে ভারত। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সে দেশের সংখ্যালঘুদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও।
সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে। গত কয়েক দিনে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনায় মহাসচিবের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় (Bangladesh News)।
মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যাপারে বিবৃতিও দিয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ময়মনসিংহের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ভারতের কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বলে দেখাচ্ছেন বলে দাবি করেছে তারা। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, বাংলাদেশে একজন নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।