এসএসসি-র নবম-দশম শ্রেণির ফ্রেশ সিলেকশন পরীক্ষায় বসতে হল চাকরিহারা শিক্ষককে। অপমান-রাগ চেপে ছাত্রীদের পাশেই পরীক্ষার হলে বসে দিলেন পরীক্ষা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 September 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাজারও বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহে রবিবার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম শ্রেণির পরীক্ষা। দীর্ঘ আন্দোলনের পরে অবশেষে এ পরীক্ষায় অংশ নিলেন ২০১৬ সালের একাধিক চাকরিহারা শিক্ষকও। স্কুলে বছরের পর বছর পড়ানো সত্ত্বেও ফের নিজের যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই—এই বাস্তবতা এখনও হজম করতে পারছেন না অনেকেই।
কলকাতার মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে সিট পড়েছিল শিবপুরের একটি হিন্দি মাধ্যম স্কুলের অঙ্ক শিক্ষকের, তিনি চাকরি হারিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। এদিন পরীক্ষার হলে বসেন নিজেরই প্রাক্তন ছাত্রীদের সঙ্গে। মুখে চাপা হাসি থাকলেও, ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, 'ওরা সবাই আমার ছাত্রী। আজ আমাকে ওদের সঙ্গেই পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। প্রশ্নপত্র অ্যাভারেজ ছিল। কিন্তু মনে প্রচুর রাগ আছে। রাগ দেখাব কোথায়? এখানে বিক্ষোভ দেখালে তো পুলিশ তুলে নিয়ে যাবে।'
চাকরি হারানো শিক্ষকদের আক্ষেপ বহুদিনের। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের আবার পরীক্ষা দিতে হবে? কেন প্রশাসনের দুর্নীতির দায় তাঁদের বইতে হবে, এই সব প্রশ্ন রয়েছেই। এদিন সেই শিক্ষক সরাসরি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ব্রাত্য বসুর কাছে তো পৌঁছতে পারব না। অনেক প্রশ্ন মনে জাগছে, কিন্তু কাকে করব? কেন চুরি করা হয়েছিল চাকরি? চুরি তো কেউ করেছে, টাকা তো কেউ নিয়েছে। আমরা তো টাকা তুলিনি। সরকারের লোকই তুলেছে। অথচ শাস্তি পেতে হচ্ছে আমাদের। চোরের সাজা যোগ্যরা পাচ্ছে—এটাই সবচেয়ে অদ্ভুত।'
পরীক্ষার হলে তাঁর পাশেই বসেছিলেন এক ছাত্রী। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র অ্যাভারেজ এসেছে। দেখা যাক কী হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন মণীন্দ্রনাথ কলেজে যাঁদের সিট পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থী। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও এ পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। সে কথা শিরোনামে আসতেই আসরে নামেন শাসক দলের অনেকে। গেরুয়া শিবির চালিত রাজ্যে চাকরি নেই বলেও দাবি করেন তাঁরা।