সোমবার বিজেপির চার বিধায়ক বিধানসভার (West Bengal Assembly) চলতি অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড (BJP MLA Suspend) হয়েছেন। যা নিয়ে উত্তাল হয় বিধানসভা কক্ষ।
.jpeg.webp)
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 23 June 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বিজেপির চার বিধায়ক বিধানসভার (West Bengal Assembly) চলতি অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড (BJP MLA Suspend) হয়েছেন। যা নিয়ে উত্তাল হয় বিধানসভা কক্ষ। শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন ও মনোজ ওরাওঁ সভাকক্ষে থাকাকালীন স্পিকার তাঁদের মার্শাল দিয়ে বের করে দিতে বলেন। তাতেই তুমুল অশান্তি শুরু হয়। এরই মধ্যে শঙ্কর ঘোষ, মনোজ ওরাওঁকে পাঁজাকোলা করে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার সময় মার্শালের সঙ্গে পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের প্রায় হাতাহাতি বাধে। অভিযোগ, অধিবেশন কক্ষের মাইক ভাঙা হয়, টেবিল ভেঙে দেওয়া হয়। এহেন আচরণ কোনওভাবে বরদাস্ত করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee)।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিমান বলেন, "বিধানসভার মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের জানা উচিত মর্যাদা কী করে রাখতে হয়। এমন হইচই করতে শুরু করলেন তাঁরা... কাগজ ছিঁড়তেও শুরু করে দেন। সরকারপক্ষের যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও বলেছি যেন শান্ত থাকেন, সবার কথা শোনা হবে। কিন্তু বিজেপির বিধায়করা এমন শুরু করলেন, এমনভাবে কাগজ ছিঁড়তে শুরু করলেন যে আমার খারাপ লাগছিল। আমার চেয়ার থেকে ওঁদের অনুরোধ করার পরেও কোনও রকম কথা শুনছিলেন না। এরপরই চারজনকে এই সেশন পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়।"
তিনি বলেন, "সাসপেন্ড করার পর তাঁরা চিৎকার চ্যাঁচামেচি করতে থাকেন। কেউ বেরোতে চাইছিলেন না। পরে মার্শালকে বললাম ওঁদের বাইরে যেতে বলুন বা বার করে দিন। তাতে মার্শাল-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাতে দশজনের মতো আহত হয়েছেন। চিকিৎসা চলছে। মেডিক্যাল ডকুমেন্টস আমাকে দিয়েছেন।"
অধ্যক্ষের কথায়, "বিজেপি বিধায়করাও আমার টেবিলের সামনে এসে বলতে থাকেন, তাঁদের চশমা ভেঙেছে, ঘড়ি ভেঙেছে। আমি ব্যাপারটা তদন্ত করে দেখব। তবে এটা একেবারেই বাঞ্ছনীয় না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এর আগে একবার আব্দুল মান্নান সাহেবকে বহিষ্কার করেছিলাম। উনি ব্যক্তিগতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারের ঘটনায় আমাদের কিছু জিনিসপত্রও নষ্ট হয়েছে। একটা টেবিল, দুটো মাইক্রোফোন ভেঙে দিয়ে গেছে। এটা নিয়েও আমি একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। সরকারি সম্পত্তি এভাবে নষ্ট হলে আগামীকাল বিধানসভার অধিবেশনে ওই জায়গায় যাঁরা বসেন তাঁরা মাইক্রোফোনের সুযোগ পাবেন না। এগুলো আমায় একটু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।"