একের পর এক গ্রেফতার হলেও এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে সোনা পাপ্পু। উল্টে মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
.jpeg.webp)
সোনা পাপ্পু
শেষ আপডেট: 3 February 2026 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোলপার্কে বোমাবাজির (Golpark Incident) ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। মঙ্গলবার ওই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Kolkata Police)। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাবুসোনা ওরফে রাহুল দাস এবং শুভঙ্কর রায়। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’জনেই এলাকার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) ঘনিষ্ঠ শাগরেদ হিসেবে পরিচিত।
তবে একের পর এক গ্রেফতার হলেও এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে সোনা পাপ্পু। উল্টে মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। লাইভে পাপ্পুর দাবি, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন এবং সেই বিষয়ে তাঁর কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার বাবার তিনটে সোনার দোকান আছে। আমরা বিড়ি কুড়িয়ে খাওয়ার লোক নই।”
লাইভে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরব হন পাপ্পু। তিনি বলেন, “কারও সঙ্গে আমার ছবি থাকলেই আমি দোষী হয়ে গেলাম? শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাকেশ সিংয়ের ছবি আছে। রাকেশ দু’মাস ধরে জেলে। তা হলে শুভেন্দু অধিকারীকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাবু সোনার সঙ্গে তাঁর ছবি রয়েছে ঠিকই, তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেকেই তাঁর সঙ্গে ছবি তোলেন। “নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও তো নীরব মোদীর ছবি আছে। নীরব মোদী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। তা হলে কি নরেন্দ্র মোদীকেও গ্রেফতার করা উচিত?” প্রশ্ন তোলেন পাপ্পু।
রবিবার রাতের ঘটনার দিন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পাপ্পু আরও বলেন, ওই দিন মাঘী পূর্ণিমা ছিল। তিনি উপোস করে বাড়িতে পুজোয় বসেছিলেন। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত তাঁকে খোঁজা হলেও, তিনি বাড়িতেই ছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই সময় তাঁর উপস্থিতির ফুটেজ রয়েছে। এমনকি তাঁর স্ত্রীও তখন লাইভ করেছিলেন বলেও দাবি করেন পাপ্পু। তাঁর প্রশ্ন, “আমি সশরীরে বাড়ির পুজোয় হাজির ছিলাম। সেই অবস্থায় কী করে আমি ঝামেলা করতে যেতে পারি?”
উল্লেখ্য, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড। অভিযোগ, ওই রাতে ব্যাপক বোমাবাজি হয় এবং গুলিও চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার ত্রাস সোনা পাপ্পুর নেতৃত্বেই এই তাণ্ডব চালানো হয়। এমনকি শাসক দলের একাংশের প্রভাবশালী নেতাদের মদতেই পাপ্পু এত দিন দাপট দেখিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবু সোনা ও শুভঙ্কর ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার তাঁদের গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর সন্ধানে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
কাঁকুলিয়া রোডের এই ঘটনার পর এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ ও স্থানীয় মহল।