আনন্দপুরে ওয়াও মোমো কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে ৫ সদস্যের SIT গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। ঘটনায় মৃত, নিখোঁজ ও গ্রেফতারি নিয়ে জোরদার তদন্ত।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 January 2026 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরে ওয়াও মোমো (Anandapur Fire) কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে হইচইয়ের অন্ত নেই। এবার সেই ঘটনার তদন্তে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP)। তাঁদের সরাসরি তত্ত্বাবধানেই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখা হবে।
এদিন, এবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই আগুন লাগার ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়’ বলে দাবি করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুললেন। একই সঙ্গে দায়ীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির কথাও স্পষ্ট ভাষায় জানালেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য, আনন্দপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ। এত বড় ঘটনা সত্ত্বেও প্রকৃত দোষীদের ধরা হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোমো কারখানার মালিক কার ঘনিষ্ঠ, সেখানে কারা টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, এমন একাধিক প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বিমানে সফর করলেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপও জোরদার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াও মোমোর গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক শুক্রবার জানান, আনন্দপুর থানায় মোট ২৭ জনের নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কার, তা শনাক্ত করার জন্য সেগুলি কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি-এ পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে তবেই নিহতদের পরিচয় এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজে সিএফএসএল-এ গিয়ে পরীক্ষার অগ্রগতি তদারক করেন।
এ দিকে, শুক্রবারও থামেনি উদ্ধারকাজ। ডেকরেটার্সের গুদামের ভেঙে পড়া টিনের শেড সরিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে তল্লাশি।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পুড়ে যাওয়া আনন্দপুরের দুটি গুদাম ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে রাজ্যপাল বলেন, “দোষারোপের জন্য নয়, তথ্য জানতেই এসেছি। তবে প্রশাসনের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। ঘটনার পর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।” একই দিনে সকালে ফের ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে তদন্তে সহায়তা করছেন।