কলেজের হস্টেল থেকেই তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেষ আপডেট: 31 January 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কটিশ চার্চ কলেজের (Scottish Church College) এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনা। মৃত ছাত্রীর নাম ঋষিতা বণিক। কলেজের হস্টেল থেকেই তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (Scottish Church student death mystery) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋষিতার বাড়ি ত্রিপুরায়। তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন এবং কলেজের হস্টেলেই থাকতেন। গত ২৪ জানুয়ারি হস্টেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত (Kolkata college student death) বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিষক্রিয়ার জেরেই ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হস্টেলের অন্যান্য ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। ঋষিতা কি বিষপান করেছিলেন—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি তিনি কোনও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আবার যদি খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকে, তা হলে অন্য কেউ কেন অসুস্থ হলেন না - এই দিকটিও নজরে রয়েছে পুলিশের। সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্কটিশ চার্চ কলেজের একটি পুরনো বিতর্কও। প্রায় বছর খানেক আগে একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে শোরগোল পড়েছিল। এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ওই অধ্যাপক মূলত দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের টার্গেট করতেন এবং ছাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। সেই অছিলায় তাঁদের অশ্লীল মেসেজ পাঠানো হত বলে অভিযোগ।
সেই সময় এই অভিযোগকে ঘিরে কলেজে বিক্ষোভে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
এখন ঋষিতা বণিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে কলেজ প্রশাসন ও হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও সহপাঠীরা।