রাজনৈতিক মহলের মতে, আইএমএ-র প্রাক্তন সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া শান্তনু সেনের পক্ষে বড় ধাক্কা।

শান্তনু সেন (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 3 July 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতি এবং চিকিৎসা, দুই জগতেই পরিচিত মুখ শান্তনু সেন। তবে এবার চিকিৎসকের পদ নিয়ে শুরু হল টানাপড়েন। ভুয়ো বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার করে দিনের পর দিন রোগী দেখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন আইএমএ প্রেসিডেন্ট তথা তৃণমূলের বরখাস্ত নেতা শান্তনু সেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে তলব করেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল (WBMC)। সেখানেই তদন্ত শেষে জানিয়ে দেওয়া হয়, দু'বছরের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে তাঁর রেজিস্ট্রেশন। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসক হিসেবে কোনও প্র্যাকটিস করতে পারবেন না তিনি।
অভিযোগ, বিদেশি সংস্থার দেওয়া এফআরসিপি ডিগ্রি-র অপব্যবহার করেছেন শান্তনু সেন। কাউন্সিলের অনুমতি বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সেই ডিগ্রি ব্যবহার করে পরিচয়পত্রে তা যুক্ত রেখেছিলেন। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বক্তব্য, 'ভুয়ো ডিগ্রি সংক্রান্ত অভিযোগ সত্যি বলেই প্রমাণিত হয়েছে। কাউন্সিলকে না জানিয়ে ওই ডিগ্রি ব্যবহার করাটা পুরোপুরি নিয়মবিরুদ্ধ।'
অভিযোগ ওঠার পরে অবশ্য পাল্টা সাফাই দেন শান্তনু। তাঁর দাবি ছিল, কাউন্সিল তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করছে। তাঁর কথায়, 'এফআরসিপি একটি সাম্মানিক ডিগ্রি। এর জন্য আলাদা করে রেজিস্ট্রেশন করানোর প্রয়োজন পড়ে না। কাউন্সিল প্রতিহিংসার বশে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।' এমনকি অভিযোগ ওঠার পর তিনি ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ডিগ্রি রেজিস্ট্রেশনের আবেদনও করেন। যদিও পরে সেই আবেদন পর্যন্ত বাতিল হয় এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আর এক চিকিৎসক নেতা ডা. নির্মল মাজি বলেন, 'শান্তনু সেনকে সাসপেন্ড করা মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঠিক পদক্ষেপ। দলের পক্ষ থেকেও তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে, কারণ তাঁর আচরণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
রাজনৈতিক মহলের মতে, আইএমএ-র প্রাক্তন সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া শান্তনু সেনের পক্ষে বড় ধাক্কা। এখন দেখার, এই ঘটনার পর আইনি পথে কী পদক্ষেপ নেন তিনি। তবে আপাতত অন্তত দু’বছরের জন্য ‘ডাক্তার শান্তনু সেন’ নামটি শোনা যাবে না কোনও চেম্বারে।