
শেষ আপডেট: 8 December 2023 21:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার বলতেই চিরাচরিত ধারণা হল, বেশ কয়েক ঘণ্টার পদ্ধতিতে অনেকটা কাটাছেঁড়া করা। তার পরে অন্তত পাঁচ-সাত দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা। সেই ধারণাতেই বদল আনতে এ বার আধুনিক পদ্ধতিতে মেরুদণ্ডের অপারেশন হচ্ছে কলকাতার হাসপাতালেই। ৩২ বছরের এক যুবক দোতলা থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে। সেই আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে মেরুদণ্ড বেঁকে গিয়ে রোগীর গলার নীচের অংশ থেকে শরীর অসাড় হয়ে যায়। এমন সঙ্কটাপন্ন রোগীর জটিল অপারেশন করে তাঁকে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে ডিসান হাসপাতাল।
প্রতীক মিত্র নামে ওই যুবক পড়ে যাওয়ার পরে তার মেরুদণ্ড বা স্পাইন ডিসলোকেট হয়ে যায়। ফলে পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে যান তিনি। ডিসান হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে এলে পরীক্ষা করে রোগীর দ্রুত অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ নিউরোসার্জন ডা. পার্থসারথি মণ্ডল। ডাক্তারবাবু বলেছেন, যুবকের যে অবস্থা হয়েছিল তাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘সিভিয়ার সার্ভিকাল স্পাইন ইনজুরি।’
মেরুদণ্ড ২৬টি ছোট্ট ছোট্ট হাড়ের টুকরো দিয়ে তৈরি। দু’টি হাড়ের টুকরোর ঘর্ষণ প্রতিরোধ করতে মাঝখানে থাকে কুশনের মত ডিস্ক। নরম জেলি দিয়ে ভরা এই ডিস্ক হাড় ক্ষয়ে যাওয়া আটকে দেয়। সামনে ঝুঁকে ভারী জিনিস তুলতে গেলে, মেরুদণ্ডের সংলগ্ন পেশি দুর্বল থাকলে বা দূর্ঘটনায় চোট লেগে কিংবা বেশি বয়সে হাড় ক্ষয়ে পেশি দুর্বল হওয়ার জন্য সামান্য চাপ পড়লেই ডিস্ক স্থানচ্যুত হয়। এমন অবস্থা হলে রোগীর হাঁটাচলা, ওঠাবসা করতে সমস্যা হয়। তবে যদি মেরুদণ্ডের অনেকটা অংশ জুড়ে জোট লাগে তাহলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। প্রতীকবাবুর ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের চোট এতটাই বেশি ছিল যে তাঁর গলার নীচের অংশ থেকে শরীর অসাড় হয়ে গিয়েছিল।
ডা. পার্থসারথি মণ্ডল বলছেন, সার্ভিকাল ট্রাকশন দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। মেরুদণ্ডের ক্ষত মেরামত করা হয় নিখুঁতভাবে। সার্জারির পরদিন থেকেই রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন।
পোস্ট-সার্জারির পরের তিনদিনেই শরীরের অসাড়তা কাটতে শুরু করে। এখন প্রতীকবাবুর অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, যে পড়ে যাওয়ার পরে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন। কোনওদিন হাঁটাচলা করতে পারবেন বলে ভাবেননি। কিন্তু অপারেশনের মাত্র ১৫ দিন পরেই তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে গেছে। নিজের পায়ে হেঁটে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখিয়েও এসেছেন। ডাক্তারবাবু অসাধ্য সাধন করেছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আগে মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার করতে হলে অনেকটা অংশ কাটতে হত। তাতে রক্তক্ষরণ হত, আবার হাঁটাচলা করতে রোগীর বেশ কিছুটা সময় লাগত। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে অনেক নিখুঁতভাবে অপারেশন করা যায়। যন্ত্রণাও কম, রোগী তাড়াতাড়ি সেরেও ওঠে।