এখন একাধিক প্রশ্ন ঘিরে তদন্ত এগোচ্ছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কি কেউ তরুণীর ঘরে ঢুকেছিল? না কি পরিচিত কারও সঙ্গেই কোনও বিবাদের জেরে এই পরিণতি? প্রেমঘটিত কোনও সম্পর্ক এর পিছনে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
.jpeg.webp)
ছবি-এআই।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাস কলকাতায় রহস্যমৃত্যু ঘিরে চরম উত্তেজনা। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুরোপুরি পাল্টে গেল ঘটনার অভিমুখ। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ, তরুণীকে শ্বাসরোধ করে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই খুন করল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। প্রেমঘটিত সম্পর্ক না কি অন্য কোনও কারণ, সব দিক থেকেই তদন্ত শুরু করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, মৃত তরুণীর নাম পুষ্পা কুমারী (২২)। তিনি নারকেলডাঙা থানা এলাকার শিবতলা লেনের বাসিন্দা। গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক তিনটে নাগাদ পুষ্পাকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর বাবা রাজ নারায়ণ শাহ। সেই সময়ই চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পুষ্পার গলায় একটি দাগ লক্ষ্য করা যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরে প্রতিবেশী কমল সিং রাজ নারায়ণকে ফোন করে জানান, পুষ্পা নিজের বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এবং কোনও সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে যান রাজ নারায়ণ। সেখান থেকে দ্রুত মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে।
পরদিন ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় প্রতিবেশী বিজন্তী দেবী নারকেলডাঙা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর মধ্যেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসতেই তদন্তে নাটকীয় মোড় নেয়। রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে খুনের কথা স্পষ্ট হওয়ায় পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
এখন একাধিক প্রশ্ন ঘিরে তদন্ত এগোচ্ছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কি কেউ তরুণীর ঘরে ঢুকেছিল? না কি পরিচিত কারও সঙ্গেই কোনও বিবাদের জেরে এই পরিণতি? প্রেমঘটিত কোনও সম্পর্ক এর পিছনে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন। পুষ্পার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে শেষ কাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। পাশাপাশি, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।
ঘটনার রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তবে আপাতত উত্তর কলকাতার এই ঘটনায় আতঙ্ক ও কৌতূহল— দু’ই ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।