
নির্যাতিতার মা-বাবা।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা এবার দাবি করলেন, তাঁদের মেয়েকে খুন করতে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে কেউ সুপারি দিয়েছিল।
৯ অগস্ট হাসপাতালের সেমিনার রুমে মর্মান্তিক অবস্থায় চিকিৎসকের ধর্ষিত দেহ উদ্ধারের পরের দিনই সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগের দিন রাতে সে বেশ খানিকটা সময় সে সেমিনার রুমে ছিল বলে দেখা গেছিল সিসিটিভি ফুটেজে। তার হেডফোনের তারও উদ্ধার হয়েছিল ঘটনাস্থল থেকে।
প্রথম থেকেই নানা স্তর থেকে দাবি করা হয়েছে, সঞ্জয়ের একার পক্ষে ওই ভয়াবহ ধর্ষণ ও খুন সম্ভব নয়। এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি পুলিশও। এমনকি ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও যা যা তথ্য মিলেছে, তাতে বারবারই প্রশ্ন উঠেছে, সঞ্জয় একা এই কাণ্ড ঘটাল কী করে। যদিও সিবিআই তদন্ত এখনও পর্যন্ত ইঙ্গিত দিয়েছে, গণধর্ষণ করা হয়নি তরুণীকে।
এই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার মা একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে হাসপাতালের 'কিছু অন্ধকার বিষয়' সম্পর্কে জেনে ফেলেছিল। সে জন্যই খুন হতে হয়েছে মেয়েকে। তিনি বলেন, 'আমাদের মেয়েকে মারার জন্য কেউ সঞ্জয়কে মোতায়েন করেছিল। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু দেখছি। আর সহ্য হচ্ছে না। খালি মনে হচ্ছে, অত্যাচারের সময়ে মেয়ে আমার নিশ্চয় মা মা করে চিৎকার করেছিল... আমি তো শুনতে পাইনি।'
নির্যাতিতার মা ওই সাক্ষাৎকারে আরও দাবি করেছেন, যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ তাঁকে ঘটনার পরে কোনও ফোন করেননি এবং পরে সে জন্য তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
মা আরও বলেন, 'আমার মেয়ে সবসময় ভয় পেত, সন্দীপ ঘোষ ওকে এমডি পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবেন। ওই দিন আমার মেয়ের শেষ কথা ছিল, খাবার এসে গেছে। ও বলেছিল, পরের দিন বাবার ওষুধের অর্ডার দিয়ে দেবে। পরের দিন রাতে বাইরে খেতে যাবে বলেও জানিয়েছিল।'
এদিনের সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতার মা আরও বলেন, 'ওরা (হাসপাতাল) কিছু লুকিয়ে রেখেছিল। আমরা যাওয়ার পরে প্রথমে আমাদের মেয়ের দেহও দেখায়নি। অনেক পরে দেখতে দিল। কেন ওরা আমাদের মেয়ের মুখ দেখাতে চার ঘণ্টা লাগাল? ওরা কি লুকোচ্ছিল ওই সময়ে?'
মেয়ে কত পরিশ্রম করত, সে কথা মনে করে মা বলছিলেন, 'ও ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করার পরেও পড়াশোনা করত। সেই সঙ্গে আরও চারটে অনলাইন কোর্স করছিল। কোভিডের সময় তো ও টানা চার দিনও ডিউটিতে থাকত পুরসভার একটা হাসপাতালে। ও আমাদের বলত, এমডি-তে গোল্ড মেডেল পেতে চায়। কিন্তু এখন তো মেয়েকে হারিয়েই ফেললাম। এখন যারা মেয়ের জন্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদ করছে, ওরা সবাই আমার সন্তান।'
নির্যাতিতার বিয়ের ঠিক হয়েছিল আর কিছুদিন পরেই। সে কথা প্রসঙ্গে তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'নিজের বিয়ের খরচ হিসেবে ওর বাবাকে ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল ও। সব শেষ হয়ে গেল। এখন তো ওর ব্যবহারের ল্যাপটপ, মোবাইলও আমাদের কাছে নেই, সিবিআইয়ের কাছে রয়েছে। আমরা ওর বিচার চাই।'