
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 February 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ের ধর্ষণ-খুন মামলায় (RG Kar Case) সিবিআই তদন্তের (CBI) গতিপ্রকৃতি নিয়ে অনেক আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আরজি কর নির্যাতিতার বাবা-মা। এমনকী, দোষী সাব্যস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পরও খুশি হতে পারেননি তাঁরা। তাঁদের মূল বক্তব্য, আসল একাধিক দোষী এখনও মুক্ত। সোমবার শিয়ালদহে আদালতে (Sealdah Court) এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ফের সিবিআই-ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা। শিয়ালদহ আদালত কী বলল?
নির্যাতিতার বাবা-মার বক্তব্য, ৭ মাসের বেশি সময় ধরে সিবিআই তদন্ত করলেও তাঁদের কিছুই জানাচ্ছে না! কলকাতা পুলিশ মাত্র কয়েকদিন তদন্ত করলেও তাঁরা একদিন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু সিবিআই সেভাবে করেইনি। তাঁদের এও অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন কোর্টরুমে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। নির্যাতিতার বাবা-মার বক্তব্য শুনে আদালত তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলেছে, পুরোটাই আদালতের নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তাই নিজেদের ব্রাত্য ভাবার প্রয়োজন নেই।
সিবিআই রিপোর্ট নিয়ে শিয়ালদহ আদালতের বক্তব্য, প্রতিদিন রিপোর্ট সম্পর্কে জানানো সম্ভব নয়। আর এই ধরনের তদন্ত যেই করুক, কেউই সব তথ্য সবসময়ে জানাতে পারে না। তাই এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। নির্যাতিতার বাবা-মার উদ্দেশে বিচারক বলেন, সিবিআই কোনও পদক্ষেপ নিল বা রিপোর্ট দিল, এমনটা আপনারা নাও জানতে পারেন। যদিও কোনও তথ্য পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন যে কোনও সময়ে।
দিন কয়েক আগে, সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের সেই আবেদনের শুনানিতেই আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিল সোমবারের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি কী, তার ভিত্তিতে রিপোর্ট দেওয়ার। সেই মতোই এদিন রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিবিআই।
সেই রিপোর্টে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের সিম কার্ড তাঁরা এখনই ফেরত দেবে না। কারণ, মামলার তদন্তে ওই সিম কার্ড ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তাই সেটা এখনই ফেরত দেওয়া যাবে না। এছাড়া তাঁদের তরফে এও জানানো হয়েছে, খুব দ্রুত এই মামলার অতিরিক্ত চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর মামলায় ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিবিআই। তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের পর বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায় এবং ৫৯ দিনের শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে। এর পরেই ২০ জানুয়ারি শাস্তি ঘোষণা করা হয় সঞ্জয়ের। সিবিআই এই মামলাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালেও, বিচারক সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।