
আরজি কর তদন্তে সিবিআই।
শেষ আপডেট: 26 December 2024 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে (RG Kar Doctor Death) অবশেষে বিশেষ অ্যানালিটিক্যাল রিপোর্ট জমা দিল দিল্লির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। সূত্রের খবর, সিবিআই-কে দেওয়া এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার দেহের আঘাত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, এই ঘটনাটি এক জনের পক্ষে ঘটানো অসম্ভব নয়। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেছে এ রিপোর্ট।
প্রসঙ্গত, আরজি করের তদন্তে ১৪ অক্টোবর দিল্লির কয়েকটি সেরা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত চেয়েছিল সিবিআই।
কারণ সিবিআই তদন্তে মেডিক্যাল বোর্ডের যে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে নির্যাতিতার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণটি হল শ্বাসরোধ করে খুন। পাশাপাশি, নির্যাতিতার হাইমেন যেভাবে জখম হয়েছে, তাতে তিনি নিশ্চিতভাবেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে সঞ্জয় রায়ের শরীরে অন্তত পাঁচটি ভোঁতা আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যা দেখে মনে করা হচ্ছে নির্যাতিতা তাকে আঘাত করেছিলেন সর্বশক্তি দিয়ে।
এই বিষয়টিতে চূড়ান্ত সিলমোহর বসানোর জন্যই সিবিআই এবার একাধিক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত চেয়েছিল।
সেই মোতাবেক, দিল্লি এইমসের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের 'মাল্টি ইনস্টিটিউশনাল মেডিক্যাল বোর্ড' (এমআইএমবি) নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি বিশ্লেষণ করেছে এবং তাদের রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার যোনিতে বলপ্রয়োগে প্রবেশ ঘটেছিল, তবে সেখানে বীর্যের কোনও নমুনা পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, পুরুষাঙ্গ ছাড়া অন্য কোনও ভোঁতা বস্তু কিংবা কন্ডোম ব্যবহারের কারণেও এমনটি হতে পারে। এছাড়া, নির্যাতিতার শরীরে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের লালার নমুনার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্যাতিতা মৃত্যুর আগে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন সেই সাক্ষ্যই দেয়। শ্বাসরোধের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। শ্বাসরোধের ফলে নির্যাতিতার চোখ বিস্ফারিত হয়ে গিয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তিনি ছটফট করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনাটি এক জনের পক্ষেও ঘটানো সম্ভব, তবে আরও প্রমাণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
পাশাপাশি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ময়নাতদন্ত চলাকালীন কিছু নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছিল। অনেকেই ময়নাতদন্ত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যক্তিগত মোবাইলে ছবি তুলছিলেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।