
হিন্দু সুরক্ষা দলের জমায়েত ও দিলীপ ঘোষের ছবি
শেষ আপডেট: 16 December 2024 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যত গড়াচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। ওপার বাংলার লাগাতার হিংসার আঁচ লেগেছে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সে দেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামল হিন্দু সুরক্ষা দল।
সোমবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু হয় মিছিল। শিয়ালদহ, হাওড়ার পাশাপাশি একাধিক মিছিল এসে শেষ হয় রানি রাসমনি রোডে। সেখানে সংগঠনের তরফে একটি জমায়েতের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্মম অত্যাচার, মন্দির ভাঙচুর, হিন্দুদের সম্পত্তি লুঠপাট ও ইস্কনের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে এদিন পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন হিন্দু সুরক্ষা দলের। এদিনের মিছিলে অংশ নেন শয়ে শয়ে মানুষ।
হিন্দু সুরক্ষা দলের নামে সভার আয়োজন করা হলেও রানি রাসমনি রোডে এদিনের ধিক্কার সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ-সহ গেরুয়া শিবিরের এক ঝাঁক নেতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একদিকে যেমন বাংলাদেশে অচলাবস্থার জন্য ইউনুস প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি, তেমনই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেন।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, ‘বাংলাদেশ উর্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীন হয়েছে। উনি (ফিরহাদ হাকিম) মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদে পশ্চিমবাংলাকে মুসলিম দেশ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই এদিনের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।’
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মনে করিয়ে দেন, হিন্দুদের সুরক্ষা চাই। তাঁদের উপর অত্যাচারের বিহিত চেয়েই আজ পথে নামা। দিলীপের অভিযোগ, সংবিধানের শপথ নিয়ে কীভাবে ফিরহাদ হাকিম, হুমায়ুন কবীররা মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর কথা বলতে পারেন? দলের উচিত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
দিলীপ প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কী মৌলবাদীদের পার্টি হয়ে গেছে? যারাই তাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন তাঁদেরই উদ্বাস্তু বলে দেশ থেকে তাড়ানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে।
সোমবার ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় দিবস। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় এবং দেশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় দিনটি। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু চলতি বছরে পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। উৎসবের দিন বদলে গেছে আতঙ্ক, বিষাদে। বিজয় দিবসে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতেই এদিনের ধিক্কার মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন হাওড়া থেকেও একটি মিছিল রানি রাসমনি রোডে এসে পৌঁছয়।