
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 February 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরা কাণ্ডের (Tangra Triple Deaths) দুই ভাই প্রসূন এবং প্রণয় দে পুলিশের কাছে প্রথমে দাবি করেছিলেন, গোটা পরিবার আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিল। তাতেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়, তিনজনকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এরপর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রণয় দাবি করেছেন যে তাঁর ভাই খুন করেছেন। তবে এই দাবি কতটা সত্যি তা যাচাই করছে পুলিশ। কারণ, বারবার বয়ান বদল করছেন দুই ভাই।
আত্মহত্যার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই মহিলা এবং নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে বলেই আপাতত পরিষ্কার। কিন্তু সেই খুন আদতে কোন ভাই করল, নাকি দুই ভাই মিলে করল, তা জানতেই এখন তৎপর পুলিশ। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রসূণ এবং প্রণয়। বাইপাসের দুর্ঘটনায় আহত ওই নাবালকও হাসপাতালে রয়েছে। যদিও দুই ভাইকে শনিবারই ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে উদ্যোগী।
নাবালক যে খুন করেনি তা পুলিশের কাছে পরিষ্কার। তাহলে এই ঘটনায় সন্দেহের মূলে রয়েছেন দুই ভাই প্রণয় এবং প্রসূণই। সেক্ষেত্রে দুটি জিনিসই হতে পারে। এক, কোনও একজন ওই তিনজনকে খুন করেছেন। আর দুই, নিজেদের স্ত্রীদের নিজেরাই একে একে খুন করেছেন দুই ভাই। আর নাবালিকা ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খেয়ে আধমরা হয়ে গেছিল। তাঁকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। তারপর তাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান।
ট্যাংরার পরিবারের তিনজনের দেহ তিনটি আলাদা ঘর থেকে মিলেছিল। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, 'নিখুঁত ভাবে' দুই বধূর হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। যেরকম নিখুঁত ভাবে শিরা কাটা হয়েছে তা একমাত্র ঘুমন্ত বা অচৈতন্য অবস্থায় থাকলেই সম্ভব। কাটার সময়ে দু'জনের কারও হাত সে ভাবে নড়েইনি পর্যন্ত। পুলিশের অনুমান, ওই বিষ পায়েস খেয়ে সকলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। আর মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই বউয়ের হাতের শিরা কেটে ফেলা হয়েছিল। পরে নাবালিকাকে মারা হয়।