২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় স্বপন কুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পবন রুইয়া গ্রেফতার
শেষ আপডেট: 31 March 2026 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সরাসরি গ্রেফতার। ৬০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের সাইবার জালিয়াতির অভিযোগে শিল্পপতি পবন রুইয়াকে (Industrialist Pawan Ruia Arrested) গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Police) পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। মঙ্গলবার নিউ টাউনের একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁকে জালে তোলেন তদন্তকারীরা।
২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় স্বপন কুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অভিযোগের নেপথ্যে কী?
তদন্তকারীদের দাবি, দেশজুড়ে চলা বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণার টাকা ঘুরপথে পবন রুইয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। প্রাথমিক তদন্তে সাইবার বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার হদিস পেয়েছিলেন। এরপর গত নভেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি এফআইআর দায়ের করে।
পবন ও তাঁর পরিবারের নামে অসংখ্য ‘শেল কোম্পানি’ বা ভুয়ো সংস্থা রয়েছে। সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা এই সমস্ত সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হত। বালিগঞ্জের সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউয়ের ‘রুইয়া সেন্টার’ থেকেই এই সমস্ত সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হত বলে অভিযোগ।
এর আগে পবনের বাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিল্পপতি। গত ডিসেম্বরে আদালত তাঁদের আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও পাসপোর্ট জমা রাখার মতো কড়া শর্ত দিয়েছিল। তবে তদন্ত এগোতেই দেখা যায়, ১৯০০-র বেশি ভুক্তভোগী রুইয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে জালিয়াতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এই মামলায় পবনের ছেলে রাঘব ও মেয়ে পল্লবীর নামও জড়িয়েছে।
পবন রুইয়ার সঙ্গে পুলিশের সংঘাত এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে জেসপ কারখানা থেকে রেলের সরঞ্জাম চুরির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাম আমলে ডানলপ কারখানার মালিকানা পেলেও পরবর্তী সময়ে জেসপ ও ডানলপ— দুই কারখানাই বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্য সরকার এই কারখানাগুলি অধিগ্রহণের চেষ্টাও করেছিল। এবার শিল্পপতির মুকুটে যুক্ত হল সাইবার অপরাধের এই গুরুতর অভিযোগ।