প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে সবুজ সংকেত নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অমিত শাহ-নিতিন নবীনরা। সেই ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন (Suvendu Adhikari’s Bhabanipur Nomination) পেশ করার কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।

অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 31 March 2026 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে যে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি সেই খবর দ্য ওয়ালেই সবার আগে প্রকাশ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে সবুজ সংকেত নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অমিত শাহ-নিতিন নবীনরা। সেই ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন (Suvendu Adhikari’s Bhabanipur Nomination) পেশ করার কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কোনও কাজ যদি এসে না পড়ে পরশু অর্থাৎ বৃহস্পতিবার শুভেন্দু মনোনয়ন পেশের সময়ে থাকবেন তিনি।

আগেও শুভেন্দুর রোড শো-তে এসেছেন অমিত শাহ
বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী মনোনয়ন পেশ করার আগে হাজরা মোড়ে জনসভা করতে পারেন অমিত শাহ। তার পর সেখান থেকে এক কিলোমিটার রোড শো করে সার্ভে বিল্ডিংয়ের আগে পর্যন্ত যাবেন। শেষে ২০০ মিটার যাবেন হেঁটে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য সোমবার মনোনয়ন পেশ করেছেন শুভেন্দু। সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের প্রবীণ মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও দিলীপ ঘোষ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়নে অমিত শাহ যদি সত্যিই উপস্থিত থাকেন, তা হলে হয়ে উঠতে পারে বহু অর্থে প্রতীকী।

'২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারে শাহ
প্রথমত, এতে শুভেন্দুর প্রতি অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদীর আস্থা বোঝাবে। দুই, বিজেপি এই বার্তাও এর মাধ্যমে দিতে চাইবে যে ভবানীপুরের লড়াইয়ে তাঁরা সিরিয়াস। অর্থাৎ গোটা বাংলাতেই এবার তাঁরা আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
বাংলায় রাজনীতি সচেতন একটা বড় অংশের মানুষের ধারণা ছিল যে, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে বোঝাপড়া রয়েছে বা ‘সেটিং’ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে সেই তত্ত্ব ভারী পাথরের মতো বসে গেছিল অনেকের মনে। সূত্রের খবর, এবার ভোটের আগে শুভেন্দুও দলের নেতাদের বুঝিয়েছেন যে, সেই ধারণা দু’ভাবে ভাঙতে পারে। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় এজেন্সি যদি তৎপরতা শুরু করে। দ্বিতীয় রাস্তা হতে পারে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানানো। সে ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থী হতে প্রস্তুত।
বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিজেপির দ্বিতীয় প্রস্তাব পছন্দসই হয়েছে। কারণ, দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের আগে ইডি যেভাবে হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করেছিল, তা ভাল বার্তা দেয়নি। উল্টে হেমন্ত সহানুভূতি পেয়ে যায়। তাই রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করে হারানোর চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।