মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাসে (Manipal Hospital, EM Bypass) ৭৬ বছরের পাটনা বাসীর জটিল হার্ট সার্জারি (Heart Surgery) সফলভাবে সম্পন্ন, সংক্রমিত লিড অপসারণে (Lead Extraction) বিরল সাফল্য।

ডক্টর দিলীপ কুমার, মণিপাল হাসপাতাল।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক কার্ডিয়াক চিকিৎসায় ফের এক অনন্য সাফল্যের নজির স্থাপন করল কলকাতার বাইপাস-সংলগ্ন মণিপাল হাসপাতাল। পাটনার বাসিন্দা, ৭৬ বছর বয়সি বিপিন পোদ্দার বিরল পেসমেকার-সম্পর্কিত সংক্রমণে ভুগছিলেন প্রায় এক দশক ধরে। দীর্ঘ এই লড়াইয়ের অবসান ঘটালেন হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ ক্যাথ ল্যাব, সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিয়োলজিস্ট ও স্ট্রাকচারাল হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাঃ দিলীপ কুমার এবং তাঁর দল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
চিকিৎসক জানালেন, ২০১৫ সালে পাটনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিপিনবাবুর ডান দিকে প্রথমবার পেসমেকার বসানো হয়। কিন্তু তিন বছর পরে সেটি বাম দিকে স্থানান্তর করার সময়ে, ডান দিকের পুরনো পেসমেকারের লিড অর্থাৎ তারটি সম্পূর্ণ সরানো হয়নি। তার থেকে যন্ত্র কেটে বার করলেও, তারটি ভিতরেই রেখে দেওয়া হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে সাব-অ্যাকিউট সংক্রমণ তৈরি হতে থাকে হার্টে। এর ফলে ২০২১-২২ সালে আরেক দফা অস্ত্রোপচার হয়। তবে লিডটি যেহেতু ভিতরে ছিল, তাই সংক্রমণও থেকেই যায়। টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে রোগী জ্বরে ভুগতে থাকেন।
এর পরেই কলকাতার মণিপাল হাসপাতালে সার্জারি করে, বিপিনবাবুর শরীরের ভিতর থেকে ১০ বছরের পুরনো সেই লিড বার করা হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। এই জটিল সার্জারির পরেই বিপিনবাবুর সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পান।
এই সার্জারির নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ দিলীপ কুমার। তাঁর কথায়, “হৃদযন্ত্রের রিদম সমস্যায় কার্ডিয়াক ইমপ্লান্টেবল ইলেকট্রনিক ডিভাইস এক বড় পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু যদি লিড পুরোপুরি সরানো না হয়, আর তা থেকে যদি সংক্রমণ হয়, তাহলে ঝুঁকি অত্যন্ত বেড়ে যায়। বিপিন পোদ্দারের ক্ষেত্রে প্রায় দশ বছরের পুরনো এম্বেডেড লিড দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের কারণ ছিল। আগের অপারেশনের দাগ ও সম্ভাব্য জটিলতার কারণে লিড অপসারণ ছিল কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। কিন্তু নিখুঁত পরিকল্পনা ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা সংক্রমিত লিড সফলভাবে সরাতে পেরেছি এবং রোগীর হার্টও ভাল কাজ করছে লিডলেস পেসমেকারে। এমন পরিস্থিতিতে লিডলেস পেসমেকার অনেক বেশি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে কাজ করে থাকে।”
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপিন পোদ্দার বলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই জ্বর আর দুর্বলতায় ভুগছিলাম। পাটনায় একাধিক অস্ত্রোপচার করেও সমস্যার মূল কারণ ধরা পড়েনি। কিন্তু মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাসে এসে সব বদলে গেল। ডাঃ দিলীপ কুমার ও তাঁর টিম শুধু সমস্যাটা খুঁজে বেরই করেননি, বরং অসীম যত্ন আর দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসা করেছেন। মনে হচ্ছে আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”