বছরখানেক আগে ভোলার প্রথম স্ত্রী ববিতা রায় মারা যান। ববিতা ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক খুন-ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের বড় দিদি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুরে আলমারির (Alipore Death Case) ভিতর থেকে ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এমন এক তথ্য সামনে এসেছে যা আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার বাবা ভোলা সিং এবং সৎমা পূজা রায়কে আটক করেছে পুলিশ। মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে (Postmortem) ইঙ্গিত মিললেও প্রতিবেশীরা মনে করছেন তাকে খুনই করা হয়েছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই নজরে এই দুজনের ভূমিকা।
মৃত নাবালিকাকে মাসের পর মাস ধরে শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। এতে সরাসরি জড়িত ভোলা এবং পূজা বলেই দাবি। তাদের দুজনকে নিয়ে আপাতত আলোচনার শেষ নেই। কারণ এরা আরজি করকাণ্ডে (RG Kar Case) দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের (Sanjay Roy) সম্পর্কে দিদি-জামাইবাবু। যদিও চমক এখানেই শেষ নয়।
বছরখানেক আগে ভোলার প্রথম স্ত্রী ববিতা রায় মারা যান। ববিতা ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক খুন-ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের বড় দিদি। পরে ভোলা বিয়ে করেন পূজাকে। অর্থাৎ দুই বোনের এক স্বামী। এদিকে প্রতিবেশীরা এও দাবি করেছেন, ভোলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন পূজা। তাই মনে করা হচ্ছে, ববিতার মৃত্যুতেও রহস্য রয়েছে। আর এই নাবালিকাকে তো খুনই করা হয়েছে।
মৃত স্কুলছাত্রী ছিল আলিপুর থানার বিদ্যাসাগর কলোনির বাসিন্দা। তাঁর বাবা ভোলা পেশায় নিরাপত্তারক্ষী, আর সৎমা পূজা কলকাতা পুলিশের কর্মী। সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে পূজা প্রথমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর আলমারির মধ্যে হ্যাঙারে ঝুলন্ত অবস্থায় সুরঞ্জনার দেহ উদ্ধার হয়। পূজার দাবি, এটি সম্পূর্ণ আত্মহত্যা, খুন নয়। একই দাবি তুলেছেন ভোলাও।
তবে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, মৃতার উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। তাঁদের অভিযোগ, ভোলা নিজের মাকেও মারধর করতেন, আর মেয়ে ও সৎমায়ের সম্পর্ক ছিল তিক্ত। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা দম্পতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁদের পাড়াছাড়া করার দাবি তোলেন। স্থানীয়দের একাংশ ইতিমধ্যেই সই সংগ্রহ শুরু করেছেন।