বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর দেহ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 September 2025 00:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) চার নম্বর গেটের পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর দেহ (Mysterious Death of Female Student)।
ঘটনার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে তীব্র প্রশ্ন (Question of Security)। ক্ষোভের ঝড় উঠেছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। সমালোচনার মুখে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবারই নতুন করে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রেজিস্ট্রার দফতর। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং স্টিকার ছাড়া কোনও গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। রেজিস্ট্রেশন নম্বর গেটে জানাতে হবে, চালক-যাত্রীর বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
ক্যাম্পাসে মাদক বা মদ্যপানের মতো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে সরাসরি আইনের মুখে পড়তে হবে।
সকাল-সন্ধ্যার হাঁটাচলা বা শর্টকাট হিসেবে ক্যাম্পাস ব্যবহার নিষিদ্ধ।
রাত ৭টা থেকে ভোর ৭টার মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। না থাকলে বিকল্প পরিচয়পত্র এবং কাকে দেখা করতে এসেছেন তার নাম-ফোন নম্বর রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এই নিয়ম অমান্য করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মৃত পড়ুয়ার বাড়ি নিমতায়। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হল, তা এখনও ধোঁয়াশায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রামা ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। তবে এত রাতে অনুষ্ঠান চালানোর অনুমতি ছিল না। সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্তও সে কথা স্বীকার করে জানান, “অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাত অবধি অনুষ্ঠান চলার কথা ছিল না। ঠিক কতক্ষণ অনুষ্ঠান চলেছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রীকে দ্রুত কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আমরা সমব্যথী।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও সহ-উপাচার্যের ব্যাখ্যা, “এত বড় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কম। সীমিত জনবল দিয়েই নজরদারি চালাতে হয়। পেট্রলিং টিম হয়তো ঘটনাস্থলে ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন নির্দেশিকার পর পরিস্থিতির বদল ঘটে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।