মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এর আগে ১৫ অগস্ট কোনও প্যারেড হত না বাংলায়, শুধু একটা পতাকা তোলা হত। কিন্তু আমরা আসার পরের বছর থেকেই রেড রোডে প্যারেড করি, ২৬ জানুয়ারির মতো।"
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 August 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই ১৫ অগস্ট (Independence Day)। দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হবে স্বাধীনতা দিবস। তবে এদিন সকালের আলো ফোটার আগেই আজ ১৪ অগস্ট সন্ধ্যা থেকে উদযাপন করা হবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। তার আগে বেহালায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী (mamata Banerjee) মনে করালেন ইতিহাস। বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানালেন, আমরা সকলে এদিন গানগুলো আওড়াই বটে, কিন্তু গানের রচয়িতাদের বেমালুম ভুলে যাই। দুটো গানের উদাহরণও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মমতা বলেন, আগে এই ভুলে যাওয়ার প্র্যাকটিসটা থাকলেও এখন সেটার পরিবর্তন হচ্ছে। তাঁর কথায়, "আমি বেহালায় আসছিলাম আর ভাবছিলাম, যে এখানকার অবস্থা আগে কী ছিল। আর এখন কী হয়েছে। আমি যখন রেলমন্ত্রী ছিলাম কত তাড়াতাড়ি জায়গাগুলো কিনে কিনে মেট্রো স্টেশনগুলো কোথায় হবে সব চিন্তা ভাবনা করেছিলাম। আজ বেহালায় প্রাণের স্পন্দন স্পন্দিত হচ্ছে দেখে আমি খুশি।"
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এর আগে ১৫ অগস্ট কোনও প্যারেড হত না বাংলায়, শুধু একটা পতাকা তোলা হত। কিন্তু আমরা আসার পরের বছর থেকেই রেড রোডে প্যারেড করি, ২৬ জানুয়ারির মতো। এসব দিন স্বাধীনতার যে গানগুলো আমাদের প্রাণবন্দত করে তোলে তার মধ্যে একটি গান 'মুক্তির মন্দির সোপান তলে'। জানেন কি এই গানটা কে লিখেছিলেন? মোহিনী চৌধুরী। তাঁর বাড়ি কোথায়? এই বেহালার রবীন্দ্রনগরে।"
মমতা যখন যাদবপুরের সাংসদ, তখনের একটা ঘটনার কথা মনে করে বলেন, তখন উনি বেঁচে আছেন। আমি তাঁকে প্রণাম করে এসেছিলাম। তখনই খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম মোহিনীবাবু বেহালায় থাকেন। অথচ তাঁর নাম কেউ জানেন না যে তিনি এই গানটা রচনা করেছিলেন।"
মমতা বলেন, "এমন অনেক সময় হয় যিনি গানটা করেন তাঁর নাম মনে রাখি কিন্তু যিনি গানের কথা লেখেন সুর দিয়ে সেটা লক্ষ্য রাখি না। কিন্তু ইদানিং সেটা হয়। আমার মনে আছে, সাংসদ থাকাকালীন যখন দিল্লি যাচ্ছিলাম, একজন এসে বললেন, মমতাজি আপনাকে কিছু বলতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ বলুন। উনি তখন আমাকে বললেন আপনি কি জানেন 'অ্যায় মেরে বতন কে লোগোঁ', যে গানটা লতাজি গেয়েছিলেন সেটা লেখা কার? আমার। কিন্তু কেউ আমার নাম জানেন না। ভদ্রলোকের নাম ছিল প্রদীপবাবু। জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি কথাটা যেখানে পৌঁছে দেওয়ার দিয়েছিলাম।"
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এদিন বেহালার অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মমতা মনে করিয়ে দেন দেশকে স্বাধীন করতে বাংলার কতটা ভূমিকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দেশ স্বাধীন করতে সব থেকে বেশি যদি কেউ অংশগ্রহণ করে থাকে, জীবন দিয়ে থাকে সেই জায়গার নাম বাংলা। বাংলার মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি। মাটি মানে মৃত্তিকা, মাটি মানে মা, মাটি মানে জন্মভূমি, কর্মভূমি। এই মাটিতেই চাইলে প্রতিভার খোঁজ পাওয়া যায়। স্বাধীনতার আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশে আজ অবধি যত সংস্কার হয়েছে তার বেশিরভাগ অবদান বাংলার।"
ঘটনাচক্রে, ১৪ অগস্ট, অর্থাৎ স্বাধীনতার দিবসের আগের এই দিন কন্যাশ্রী দিবসও। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বললেন, ড্রপ আউট রেট জিরো। প্রকল্প চালুর ১২ বছরের মাথায় বাংলার প্রাথমিক শিক্ষায় ১০০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীই স্কুলে যায়।"