সূত্রের খবর, অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বাবা-মা তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন।

মোস্ট ওয়ান্টেড গ্রেফতার
শেষ আপডেট: 27 October 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ রাজ্যের পুলিশের নিশানায় ছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ ধরতে পারেননি। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পালিয়ে গেছেন, ফোন বদলেছেন, সিম পাল্টেছেন, এমনকি নিজের নামও বারবার বদলেছেন। অবশেষে পাঁচ বছর ধরে গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে চলা সেই ঠগবাজকে পাকড়াও করল বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)। যাঁকে ধরতে গিয়ে তেরোটি রাজ্যের পুলিশ তৈরি করেছিল বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, চালানো হচ্ছিল ২৪ ঘণ্টা নজরদারি— সেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ (Most Wanted) অভিযুক্ত এখন পুলিশের হেফাজতে।
অভিযুক্ত দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা, সম্ভবত বেঙ্গালুরু শহরের। সূত্রের খবর, অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বাবা-মা তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন। তারপর থেকেই শুরু হয় রাজ্যজোড়া দৌড়ঝাঁপ— হোটেল থেকে হোটেলে, শহর থেকে শহরে।
নিজেকে ঘুরতে আসা ভদ্রলোক হিসেবে পরিচয় করতেন তিনি। কোনও বড় শহরে গিয়ে মাঝারি মানের হোটেল ভাড়া নিতেন। তারপর সেখানে থাকা অন্য অতিথিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। দিন কয়েকের মধ্যেই সেই বন্ধুত্বের পরিণতি হত সর্বনাশা। মাঝরাতে বন্ধুর নগদ টাকা, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দিতেন তিনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর, প্রতারণার পরও তাঁর আচরণে ছিল এক অদ্ভুত ‘ভদ্রতা’। পুলিশ জানিয়েছে, অপারেশন শেষ হলেই তিনি সেই চুরি যাওয়া সামগ্রী ফেরত পাঠিয়ে দিতেন পোস্টে! যেন অপরাধ নয়, এক অদ্ভুত খেলাই চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রতারণার টাকা দিয়েই তিনি সম্প্রতি কিনেছিলেন প্রায় ১৫টি দামি আইফোন। যার বাজারদর প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। গ্রেফতারির সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আধার কার্ড, ৪০টি সিম কার্ড এবং নানা ডিজিটাল ডিভাইস।
বছরের পর বছর অভিযুক্তের গতিবিধি ট্র্যাক করেও ব্যর্থ হচ্ছিল পুলিশ। লোকেশন পেলেও পৌঁছনোর আগেই উধাও হয়ে যেত সে। অবশেষে কৌশল বদলায় বিধাননগর থানার গোয়েন্দারা। শনিবার রাতে তাঁর ‘লাইভ লোকেশন’ ধরা পড়ে কেরলে। সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশেষ দল বিমানে চেপে পৌঁছে যায় সেখানে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের তল্লাশির পর রবিবার রাতে অবশেষে সফলতা। ধরা পড়ে দেশের ১৩ রাজ্যের পুলিশের মাথাব্যথার কারণ সেই ‘ঠগবাজ’।
চতুরতা, বুদ্ধি আর অভিনব কৌশলে একের পর এক রাজ্যের পুলিশকে বোকা বানিয়ে যাওয়া এই অভিযুক্ত এখন বিধাননগর পুলিশের হাতে। তদন্তকারীরা বলছেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম অপরাধচক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে কিনা, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”