কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামের সভা থেকে আরএসএস ও বিজেপিকে এক করে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করলেন মোহন ভাগবত। সঙ্ঘকে তার নিজস্ব ভাবনা ও আদর্শের চোখ দিয়েই দেখার বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান।

মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 21 December 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "সঙ্ঘের (Rashtriya Swayamsevak Sangh) মতো দ্বিতীয় কোনও সংগঠন নেই, কোনও তুলনাতেই আসে না," আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে (Kolkata Science City Auditorium) সভায় এমনটাই জানালেন সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভগবত (RSS chief Mohan Bhagwat)।
শুরু তাই নয়, আরএসএস নিয়ে মানুষের একটা ভুল ধারণা ভাঙানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সঙ্ঘকে বিজেপির (BJP) চোখ দিয়ে দেখার কথা কেউ কেউ বলেন। এটা অনেক বড় ভুল। সঙ্ঘকে সঙ্ঘের চোখ দিয়েই দেখতে হবে।"
এই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধানের কথা, "সঙ্ঘের কেউ শত্রু নেই, কিন্তু সঙ্ঘ বড় হয়ে গেলে হয়তো অনেকের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে সঙ্ঘের বিষয়ে ভুল প্রচার করতে থাকে।"
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, বাংলায় শুধু চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কের উপর ভরসা করে বিজেপির সাফল্য কঠিন, এই বাস্তবতা বুঝেই আরএসএসের মাধ্যমে সমর্থনের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
"সঙ্ঘকে ভাল বলে মনে করবেন কি করবেন না, সেটা তো যার যার নিজের বিষয়। কিন্তু কোনও একটা ন্যারেটিভকে সামনে রেখে সঙ্ঘকে জানবার চেষ্টা করবেন না", মত মোহন ভগবতের।
আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তির এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটল শনিবার সন্ধ্যায়, অর্থাৎ এই সভার ঠিক আগের রাতে। কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি হয়, তারপর আদালতের নির্দেশে শেষমেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি পায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ।
শনিবার সন্ধ্যায় মামলার শুনানি শুরু হতেই রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ই-মেলের মাধ্যমে অনুমতিপত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে যদি রাত ন’টার মধ্যে কলকাতা পুলিশের লালবাজারের রিপোর্ট সেকশনে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়, সেক্ষেত্রে সেখান থেকেই অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি, আবেদনকারীর আইনজীবীদের ই-মেলেও সেই অনুমতিপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দেন, রাত ন’টার মধ্যেই আরএসএস-এর প্রতিনিধি লালবাজার থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীকেও ই-মেলের মাধ্যমে সেই অনুমতির কপি পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের এই নির্দেশের পরই অনুষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে তৈরি হওয়া জট কাটে।