
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 February 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের বর্ধিত কর্মিসভাকে (TMC Meeting) কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার চরম বিশৃঙ্খলা দেখা গেল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium)। আপাত নজরে দেখে মনে করা হচ্ছে, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে যা ধারণ ক্ষমতা তার তুলনায় বেশি নেতা কর্মী পৌঁছে গিয়েছেন সেখানে। তার ফলে গেট খোলার পর থেকেই স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য তুমুল ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। তা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে কাচে হাত কেটে গিয়েছে মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রর। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে।
একটু তাড়াহুড়ো করেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। আগে আলোচনায় ছিল যে ২৭ তারিখ সভা হবে। কিন্তু তা নিয়ে কোনও স্থির সিদ্ধান্ত হয়নি। রবিবারই নির্দেশ আসে যে বৃহস্পতিবার সভার আয়োজন করতে হবে।
নেতাজি ইনডোরের ফ্লোর ও স্টেডিয়াম মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার নেতা কর্মীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমন্ত্রিত নেতা কর্মীদের জন্য গত মঙ্গলবার কার্ড ছাপতে যায়। তা হাতে আসে বুধবার। সেই কার্ড জেলাতেও পাঠানো হয়। মোটামুটি ভাবে একটা ফর্মুলা করে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ জেলা, ব্লক, অঞ্চল থেকে কোন স্তর পর্যন্ত কর্মীদের ডাকা হবে। কিন্তু অনেকের ধারণা তার চেয়ে বেশি কর্মী এসে পৌঁছেছেন। যদিও আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু তার পরেও দেখা যাচ্ছে, অনেকে অভিযোগ করছেন, তাঁরা কার্ড পাননি। এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন মন্ত্রী উদয়ন গুহও।
এই অবস্খায় ১১ টায় গেট খুলতে না খুলতেই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। যা সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান দলের স্বেচ্ছাসেবকরা। পুলিশও হিমসিম খেয়ে যায়। এরই মধ্যে নেতাজি ইনডোরের দরজার কাচ ভেঙে যায়। তাই হাত কাটে মন্ত্রীর। আরও কয়েক জনের হাত কেটেছে বলে জানা গিয়েছে। মাটিতে রক্তের ফোঁটা পড়ে থাকতেও দেখা গিয়েছে।
এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, অর্থাৎ বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইনডোরে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে নয়। ধাক্কাধাক্কির মুখে পড়তে হয়েছে সাংবাদিকদেরও। ফলে তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরাতে কনফারেন্স রুমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
নেতাজি ইনডোরে তৃণমূলের শেষ বর্ধিত কর্মিসভা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। তার পর থেকে গত ১ বছর ৩ মাসে এ ধরনের কোনও সভা হয়নি। তাই এই সভা নিয়ে আগ্রহ ছিল দলের সব স্তরে। অনেকের কৌতূহল রয়েছে, এই সভা থেকে রদবদলের কোনও ঘোষণা হয় কিনা তা দেখা। নিচু তলায় কারও কারও শক্তি প্রদর্শনেরও আকাঙ্খা ছিল। সেই সবের সন্মিলিত অভিঘাতেই এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।