.jpeg)
ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী।
শেষ আপডেট: 30 April 2025 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সন্ধেয় বড় বাজারের মেছুয়া বাজারের হোটেলে (Massive Fire, Kolkata) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এদের মধ্যে ১৩ জনের দেহ আগুন নেভার পর হোটেলের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছেন দমকলের কর্মীরা। তাঁদের দেহে দগ্ধের কোনও চিহ্ন নেই., যা থেকে প্রাথমিক তদন্তে দমকল ও পুলিশ কর্মীদের অনুমান, দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে তাঁদের। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
আর এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্র ধরেই শহরবাসীর স্মৃতিতে ভেসে উঠছে দেড় দশক আগের দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ২০১০ সালে মার্চে স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের। তার দেড় বছরের মাথায় ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকুরিয়ার আমরি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল ৯৩ জনের।
এরপরও একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শহরে। গত বছর কসবার অ্যাক্রোপলিস মল, তার আগে সূর্যসেন লেনের মার্কেট, তারও আগে স্ট্যান্ড রোড এবং শিয়ালদহ মার্কেটেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। শহরবাসীর মতে, প্রতিটি ঘটনার পর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থায়ি নিয়ে পদক্ষেপের কথা বলাও হলেও বাস্তবে তা কার্যকরী হয় না কেন?
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি শহরের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি বৈঠক থেকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ এবং দমকল ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গড়ে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তারপরও নজরদারিতে যে গাফিলতি ছিল তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন শহরবাসীর একাংশ।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁরা হোটেলের প্রথম তলায় আগুন দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে ছ'তলা হোটেলের অন্যান্য ফ্লোরে। আচমকা আগুনে হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। জানা যাচ্ছে ৪৪টি রুমে মোট ৮৮ জন পর্যটক ছিলেন। তবে সন্ধের মুখে কয়েকজন হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়েছিলেন।
এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে উদ্ধার এবং ১৩ জনের মৃতদেহ (ঘটনার পরই একজন লাফ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন, পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়) উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দমকল বাহিনী পৌঁছলেও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে হোটেলের ভেতর যেন অগ্নিপুরী। দীর্ঘক্ষণ হোটেলের ঘরে দমবন্ধ অবস্থায় আটকে থাকার জেরেই মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যা থেকে স্পষ্ট, হয় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, বা তা যথাযথভাবে কাজ করেনি। স্বভাবতই প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কীভাবে অগ্নিকাণ্ড, হোটেলে আদৌ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কিনা, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশার মনোজ ভার্মাও। তিনি জানান, পলাতক হোটেল মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বাকি বিষয়গুলিও। সেজন্য গঠন করা হয়েছে সিটও (SIT)।