কোন ট্রেন কোথায় যাবে, তা আগে থেকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এছাড়া পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কেও ঘোষণা করা হচ্ছে না বলেও দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণেশ্বর (Dakhineswar) থেকে কবি সুভাষ (Kavi Subhash) - কলকাতার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো লাইন (Kolkata Metro)। কিন্তু কবি সুভাষ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পিলারে ফাটল ধরা পড়ার পর থেকেই পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। আপাতত প্রান্তিক স্টেশন শহিদ ক্ষুদিরাম হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।
সোমবার থেকেই দেখা যাচ্ছে, দিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রেন দক্ষিণেশ্বর থেকে যাত্রা শুরু করে থেমে যাচ্ছে মহানায়ক উত্তম কুমার বা টালিগঞ্জ স্টেশনে (Tollygunge)। আবার সেখান থেকেই ফিরছে দক্ষিণেশ্বরের দিকে। ফলত, টালিগঞ্জের পর যারা যেতে চান তারা পড়ছেন প্রবল সমস্যায়।
এই ঘটনায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ যাত্রীদের। কারণ, কোন ট্রেন কোথায় যাবে, তা আগে থেকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। এছাড়া পরিবর্তিত সময়সূচি (Timetable) সম্পর্কেও ঘোষণা করা হচ্ছে না বলেও দাবি। তাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে, কোন মেট্রো শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত যাবে আর কোনটা যাবে শুধু টালিগঞ্জ পর্যন্ত।
কোথায় সমস্যা?
মেট্রো সূত্রের খবর, কবি সুভাষে যেমন আপ–ডাউন লাইন পরিবর্তনের ব্যবস্থা রয়েছে, শহিদ ক্ষুদিরামে তা নেই। এতদিন কবি সুভাষগামী ট্রেন ডাউন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে সামান্য এগিয়ে গিয়ে লাইন পরিবর্তন করে আপ প্ল্যাটফর্ম থেকে ফের দমদম বা দক্ষিণেশ্বরের দিকে রওনা দিত। শহিদ ক্ষুদিরামে সেই অবকাঠামো নেই। ফলে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা, কর্তৃপক্ষও।
এই পরিস্থিতিতে কোনও কোনও সময় একই লাইনে একাধিক ট্রেন আটকে পড়ছে। তার জেরে হচ্ছে বিলম্ব, বাড়ছে ভিড়। মেট্রোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, শহিদ ক্ষুদিরাম থেকেই সহজেই দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেন ছাড়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে মাসখানেকের মধ্যেই প্রকট হয়ে উঠেছে সমস্যা। তাই বিকল্প হিসেবে কিছু ট্রেন টালিগঞ্জ পর্যন্ত ঘুরিয়ে দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীদের অসন্তোষ
যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, হঠাৎ করেই কোনও তথ্য না দিয়ে পরিষেবা সংক্ষিপ্ত করায় তাঁরা নাজেহাল। টালিগঞ্জে নেমে আবার অন্য ট্রেন ধরতে হচ্ছে, অপেক্ষা করতে হচ্ছে বেশি সময়।
কর্তৃপক্ষের দাবি
কলকাতা মেট্রোর তরফে জানান হয়েছে, পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়ছে না। বরং যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিষেবা বাড়ানো হয়েছে। আগে ব্লু লাইনে দৈনিক ২৬২টি পরিষেবা চালু ছিল, সোমবার (২৫ অগস্ট) থেকে তা বেড়ে হয়েছে ২৮৪। তবে এখানেও প্রশ্ন - কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করার কারণেই কি পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে?