দীর্ঘ অপেক্ষার পর কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের (Kavi Subhash Metro construction) পুনর্নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। স্টেশন নতুন রূপে ফের যাত্রীদের জন্য কবে খুলবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা (Metro station redevelopment)।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 February 2026 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার মেট্রো প্রকল্পে এবার এল একসঙ্গে দুটি বড় খবর (Kavi Subhash Metro construction)। একদিকে যেখানে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন যাত্রীরা, সেখানে অরেঞ্জ লাইনের কাজ নিয়ে জট কাটেনি (Orange Line delay) এখনও। তবে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক প্রকল্প একসঙ্গে এগোতে থাকায় মেট্রো পরিষেবার ভবিষ্যত আরও আধুনিক হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা কর্তৃপক্ষের।
কবি সুভাষ স্টেশনে কাজের গতি বাড়ল, পয়লা বৈশাখে উদ্বোধনের জল্পনা
দীর্ঘ অপেক্ষার পর কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের () পুনর্নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। স্টেশন নতুন রূপে ফের যাত্রীদের জন্য কবে খুলবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা (Metro station redevelopment)। মেট্রো সূত্রে খবর, পয়লা বৈশাখের মধ্যেই স্টেশনটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু হয়েছে। নতুন নকশা, উন্নত কাঠামো এবং বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা- সব মিলিয়ে দক্ষিণ কলকাতার যাত্রীদের জন্য এটি হতে চলেছে বড় উপহার।
অরেঞ্জ লাইনের কাজ স্থগিত
অন্যদিকে বিপরীত চিত্র অরেঞ্জ লাইনে (Orange Line Metro)। চিংড়িঘাটায় পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ছ’রাত ধরে প্রতি রাতে অন্তত চার ঘণ্টা রাস্তা পুরো বন্ধ করে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, এখন অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এখন চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam), আর ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক (HSExam)। এই সময়ে রাস্তা বন্ধ হলে যানজটে পরীক্ষার্থীদের বড় সমস্যা হবে।
মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানান, “চিংড়িঘাটা অংশে কাজ শুরু করতে এখনও পুলিশের কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাইনি। উত্তর পেলেই কাজ শুরু হবে। আমরা আশাবাদী যে সময়মতো অরেঞ্জ লাইনের সম্পূর্ণ রুট চালু করা সম্ভব হবে।”
ব্লু লাইনে আসছে বিশ্বমানের টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম
এদিকে ব্লু লাইন নিয়ে শুরু হয়েছে আরেক বড় আপগ্রেডেশন প্রকল্প। আগামী চার বছরের মধ্যে ব্লু লাইনের ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের মাঝের টানেলগুলোতে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম। এটি সম্পূর্ণ জলনির্ভর পুরনো সিস্টেমের বদলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টানেলে সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা বাতাস পৌঁছে দেবে। এই প্রকল্পে মেট্রো রেল গাঁটছড়া বেঁধেছে শিনরিও সুবিধা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে। মোট খরচ ৫৮৫ কোটি টাকা এবং লক্ষ্য ৪ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা।
এই সিস্টেম প্রতিটি স্টেশনের দুই প্রান্তে ইনস্টল হবে। পাশাপাশি দুটি স্টেশন থেকে একযোগে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে, ফলে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা দুটোই বাড়বে। পরিষেবা বন্ধ না রেখে প্রতিদিন রাতে ধাপে ধাপে এই কাজ করা হবে।
সব মিলিয়ে, একদিকে কাজ এগোচ্ছে দ্রুত, অন্যদিকে কয়েকটি বাধাও রয়েছে। তবে কলকাতা মেট্রো ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের পরিষেবা দিতে চলেছে, এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে এই নতুন ঘোষণাগুলি।