কলকাতা ল’ কলেজের (Kasba Law College) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের মাঝেই বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র।

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 29 June 2025 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ল’ কলেজের (Kasba Law College) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের মাঝেই বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র। সেই মন্তব্যকে ঘিরে যখন তীব্র বিতর্ক, তখন নিজের দলের নেতাদেরই কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শনিবার এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ মহুয়া লেখেন, “ভারতে নারী বিদ্বেষ সব রাজনৈতিক দলেই আছে। কিন্তু @AITCofficial-এর যা আলাদা করে, তা হল—আমরা যেই হোক না কেন, এমন জঘন্য মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলি।”

তিনি এই মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেই পোস্টকে উদ্ধৃত করে, যেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রর মন্তব্য থেকে দল নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। সেই বিবৃতিতে দল জানিয়েছে, “দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজের ঘটনায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্রর মন্তব্য তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত মত। দল তাদের মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় এবং এই ধরনের মন্তব্যকে জোরালোভাবে নিন্দা করে।”
তৃণমূল আরও জানায়, “আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট; মহিলাদের উপর হওয়া অপরাধের প্রতি আমাদের কোনো সহনশীলতা নেই এবং আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বলা হয়, “মেয়েদের বাইরে বেরোনোর সময় দেখা উচিত, তারা কার সঙ্গে যাচ্ছে।” অন্যদিকে, মদন মিত্র বলেন, “ওই মেয়েটি একা না গেলেই হতো।” এই ধরনের বক্তব্যকে 'সারভাইভার শেমিং' বলেই চিহ্নিত করেছেন অনেকেই।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং এই ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করে এটিকে “রাষ্ট্র স্পনসর্ড ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করে। রাজ্য যেখানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে এমন ঘটনা ঘটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলে বিজেপি।
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দক্ষিণ কলকাতা জেলার সাধারণ সম্পাদক মনোজিত মিশ্র। তাঁর সঙ্গেই অভিযুক্ত আরও দু’জন ছাত্র—জাইব আহমেদ (১৯) ও প্রমিত মুখার্জি (২০)। অভিযুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি কলেজের নিরাপত্তারক্ষী, যিনি পুরো ঘটনা জানার পরেও তা কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানাননি।
শুক্রবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, “আমরা নির্যাতিতার পাশে আছি। এই ঘটনায় রাজনীতি না করে, কঠোর শাস্তির দাবি জানানোই উচিত সকলের।”