মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকেও তীর ছুড়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে তিনি রাজ্যে ১০ হাজার মাদ্রাসা গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তার অর্ধেকও মূর্ত স্বরূপ পায়নি। সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রণালীর উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ‘উদাসীনতা’ই শিক্ষকদের মতে এই সঙ্কটের মূল কারণ।

আন্দোলনরত মাদ্রাসার শিক্ষকরা
শেষ আপডেট: 25 November 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ১১ মাসের বেতন বকেয়া, মিড-ডে মিলের বরাদ্দ নেই, উপরন্তু অনুদানহীন অবস্থায় প্রতিদিনের মতো ক্লাস সামলানো—অভিযোগের পাহাড় নিয়ে মঙ্গলবার রাস্তায় নামলেন West Bengal Recognized (Un-Aided) Madrasah Teacher’s Association-এর শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
শহরের রাস্তায় রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে ক্ষোভের সুর, “কাজ করব, অথচ বেতন পাব না—এটা কীভাবে সম্ভব!”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দিকেও তীর ছুড়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে তিনি রাজ্যে ১০ হাজার মাদ্রাসা গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তার অর্ধেকও মূর্ত স্বরূপ পায়নি। সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রণালীর উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ‘উদাসীনতা’ই শিক্ষকদের মতে এই সঙ্কটের মূল কারণ।
এদিন শিয়ালদহ থেকে কালীঘাট পর্যন্ত মিছিলের ডাক থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি ধর্মতলাতেই থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকেই শিক্ষকরা নবান্নমুখী হন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আধিকারিকদের হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন।
শিক্ষকদের আলটিমেটাম স্পষ্ট, “১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই বকেয়া বেতনসহ সমস্ত দাবি মিটাতে হবে। না হলে সারা বাংলা জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।”
আন্দোলনকারীদের সোজাসাপ্টা তিন দাবি—মাদ্রাসায় অবিলম্বে মিড-ডে মিল চালু করতে হবে, সমস্ত মাদ্রাসাকে গভর্মেন্ট এডেডের আওতায় আনতে হবে এবং ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১১ মাসের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে।
তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন দেখার দাবি আদায়ে শিক্ষকরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন নাকি তার আগেই সমস্যার সমাধানে হস্তক্ষেপ করবে সরকার।