রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত সরু চ্যানেল বেয়ে কলকাতার ডক সিস্টেমের (KDS) ভেতরে সাফল্যের সঙ্গে নিয়ে আসা হলো কন্টেইনারবাহী জাহাজ 'সিনার পাঙ্গালাম সুসু' (Sinar Pangalam Susu)। বন্দরের ১৫৫ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।

রাতের অন্ধকারে কলকাতা বন্দরে ভিড়ল কন্টেইনারবাহী জাহাজ
শেষ আপডেট: 27 February 2026 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসের পাতায় নতুন পালক যুক্ত করল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ (SMPA)। বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলটরা অসাধ্য সাধন করলেন। রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত সরু চ্যানেল বেয়ে কলকাতার ডক সিস্টেমের (KDS) ভেতরে সাফল্যের সঙ্গে নিয়ে আসা হলো কন্টেইনারবাহী জাহাজ 'সিনার পাঙ্গালাম সুসু' (Sinar Pangalam Susu)। বন্দরের ১৫৫ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।
চ্যালেঞ্জিং নৌপথ ও পাইলটদের দক্ষতা
ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত হুগলি নদীর (Hooghly River) উপরের ৪০ নটিক্যাল মাইলের অংশটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সরু চ্যানেল, ঘন ঘন ক্রসিং, স্থানান্তরিত বালির চর এবং তীব্র স্রোতের কারণে এই পথে জাহাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু বন্দরের অভিজ্ঞ নাবিকরা এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাদার উৎকর্ষতার প্রমাণ দিলেন। ১২৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬.১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ 'সিনার পাঙ্গালাম সুসু' নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে।

মিথ ভাঙল মে মাসের পরীক্ষামূলক যাত্রা
এতদিন ধারণা ছিল, রাতের অন্ধকারে ওপরের দিকের অংশে জাহাজ চালানো অসম্ভব। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর (Shyamaprasad Mukherjee Port) কর্তৃপক্ষ সেই দীর্ঘদিনের মিথ ভেঙে নজির গড়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ২ মে বহির্মুখী কন্টেইনার জাহাজ 'সিনার পেনিডা' দিয়ে প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রানজিট সম্পন্ন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই রাতের অন্ধকারে জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করেছে।

‘রাউন্ড-দ্য-ক্লক’ নেভিগেশনের দিকে পদক্ষেপ
এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বন্দর চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমান। তিনি জানান, এই অর্জন হুগলি নদী ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের পথে এক বড় পদক্ষেপ। বন্দরের প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং দক্ষতার প্রতীক এই ঘটনা। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন বিভাগের পারস্পরিক সমন্বয়ে এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। SMPA-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বন্দরটিকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।