
মনোজ ভার্মা।
শেষ আপডেট: 21 September 2024 01:01
সুমন বটব্যাল
পাখির ডাকে নয়, তখন জঙ্গলমহলের ঘুম ভাঙত বোমা, গুলির আওয়াজে। প্রায় প্রতিদিনই খুন-অপহরণের ঘটনা ঘটছে। গাছ ফেলে, রাস্তা কেটে জঙ্গলমহলে কার্যত সমান্তরাল প্রশাসন চালু করে দিয়েছে মাওবাদীদের সহযোগী পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি।
সালটা ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। অবরুদ্ধ জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি সামলাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পদে এলেন মনোজ ভার্মা। দায়িত্ব নেওয়ার পরই যৌথবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলপথে পায়ে হেঁটে লালগড়ে পৌঁছেছিলেন তিনি। ভিজিট করেছিলেন থানায় থানায়। যেমনটা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েকদিন ধরে থানায় থানায় ঘুরে পরিস্থিতির হাল হকিকৎ বোঝার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবারই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব পেয়েই শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঢেলে সাজাতে বুধবার গোয়েন্দা বিভাগকে নিয়ে বসেছিলেন বৈঠকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আরজি কর হাসপাতাল পরিদর্শনের পাশাপাশি কাশীপুর, সিঁথি-সহ টালা থানা পরিদর্শন করলেন নতুন নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা। শুক্রবারও আমহার্স্ট স্ট্রিট-সহ একাধিক থানা পরিদর্শন করতে দেখা গেল তাঁকে।
কলকাতা পুলিশের অধীনে মোট থানার সংখ্যা ৯১টি। এর মধ্যে ৮০টি সাধারণ থানা, ৯টি মহিলা থানা,১টি সাইবার ক্রাইম এবং ১টি এসটিএফ থানা। অতীতে মেদিনীপুরে দায়িত্ব নেওয়ার পর (তখনও ঝাড়গ্রাম জেলা হয়নি) ৩৩টি থানা চষে বেরিয়েছিলেন তিনি।
অতীত স্মৃতি উস্কে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৎকালীন এক পুলিশ কর্মীর কথায়, "অকুতোভয় বললেও কম বলা হয়। তেমনই ঠান্ডা মাথার মানুষও। কখনও কোথাও অশান্তির খবর শুনলে সবার আগে নিজে ছুটে যেতেন।"
সে সময় মেদিনীপুর সদর কোতওয়ালি থানার পুলিশের এক গাড়ি চালক, বর্তমানে গড়বেতা থানায় কর্মরত রয়েছেন। তাঁর কথায়, "বড় অফিসাররা সাধারণত আমাদের মতো ড্রাইভারদের কাছ থেকে খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। কিন্তু মনোজ স্যার এসপি হয়ে আসার পর থানা ভিজিটে এসে আমার সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছিলেন। নিজের ফোন নম্বর দিয়ে বলেছিলেন, কোথাও পুলিশের কোনও ভুল ত্রুটি দেখলে সরাসরি আমাকে জানাবেন।"
আর এক পুলিশ কর্মীর কথায়, "মনোজ স্যারের ভাল দিক যেমন আছে তেমন খারাপ দিকও রয়েছে। উনি একেবারেই প্রচার বিমুখ। তবে এখন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে বদলেছেন কিনা, সেটা সময় বলবে।"
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশে এমনই হাজারও স্মৃতি রয়েছে মনোজ ভার্মাকে ঘিরে। আরজি কর পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর যেভাবে কলকাতার থানায় থানায় ভিজিট শুরু করেছেন তাতে তার ঘর গোছানোর ইঙ্গিত দেখছেন পুলিশের অনেকেই।
২০১১ সালের ২৮ মে। মেদিনীপুর থেকেই ডিআইজি পদে উন্নীত হয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে বদলি হয়ে যান তিনি। ততদিনে জঙ্গলমহল কার্যত মাও মুক্ত। ওই বছরেরই ২৪ নভেম্বর বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির।