ফোনে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় এক দোকানে সেটি সারাতে দিয়েছিলেন তরুণী। অভিযোগ, সেখান থেকে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 19:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোনে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় এক দোকানে সেটি সারাতে দিয়েছিলেন তরুণী। তারপর সেখান থেকে তাঁর ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হয়েছে (phone repair shop privacy breach), এমন অভিযোগ উঠে এসেছে খাস কলকাতাতেই (Kolkata phone repair shop video leak)। সেই ঘটনার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ওই তরুণী। সাংঘাতিক ট্রমায় ভুগছেন তিনি। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘কলকাতার ফোন রি-পেয়ার শপ আমার ব্যক্তিগত ভিডিও লিক (personal video leaked) করেছে। আমি জানি না এই ট্রমা থেকে কীভাবে মুক্তি পাব। আমার মা-বাবা এখন আমার সঙ্গে কথা বলছেন না, আমি সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছি, ফোন নম্বর পাল্টে ফেলেছি এবং সবার থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছি। আমি আর নিজের ঘর থেকে বাইরে বেরোই না, মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলি এবং ফোন ব্যবহার রীতিমতো বন্ধ করেছি।’
এই ঘটনাটি সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হলে নেটিজেনরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। একজন ব্যবহারকারী রেডিটে (Reddit) লিখেছেন, “সার্ভিস সেন্টারে কখনও আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না। তারা সবকিছু দেখতে পারে, তাই ব্যক্তিগত ছবিগুলো গোপন ফোল্ডারে রাখুন।”
কিছু ব্যবহারকারী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, কাছের পুলিশ স্টেশন বা সাইবার সেল-এ FIR দায়ের করা উচিত। আইন বলছে, গোপনীয়তা লঙ্ঘন (জেল ও জরিমানা), যৌনভাবে স্পষ্ট উপাদান প্রকাশ/লিক (৫–৭ বছর জেল + জরিমানা) এবং ভয়েরিজম এবং আচার-ব্যবহারে অসম্মান – এইসব ধারায় মামলা হতে পারে।
জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) থেকেও অভিযোগ জমা দেওয়া যায়: complaintcell-ncw@nic.in।
ঘটনার পর হাজার হাজার অচেনা মানুষ মহিলা-র ইনবক্সে মেসেজ পাঠিয়েছেন, যা তাঁর মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করে তুলেছে। নিজের পরিবারও তাঁকে সহায়তা করতে পারেনি। অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও ন্যায়বিচারের বিষয়ে শঙ্কা রয়েই গিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যদি এমনটা একটি ফোন রি-পেয়ার শপ করতেই পারে, তাহলে নারীদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থার অবস্থা কী হবে?”
নেটিজেনরা এও পরামর্শ দিয়েছেন যে, “যখন আপনার সন্তান, বিশেষ করে মেয়ে বিপদে পড়েছে, তখন বাকি সব ভুলে প্রথমে তাকে রক্ষা করুন। এটি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।”