দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টে উঠেছে আরজি কর কাণ্ডের মামলা। আজ, মঙ্গলবার, দুপুর তিনটের মধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে কেস ডায়েরি ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। একই সঙ্গে, এদিন আদালতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আরজি কর হাসাপাতাল থেকে সদ্য পদত্যাগ করা অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠাতে হবে। প্রধান বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কী করে পদত্যাগ করার পরেই সঙ্গে সঙ্গে অন্যত্র অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি!
এদিন প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত না পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, ততদিন বাড়িতে বসে থাকবেন সন্দীপ ঘোষ। সেইসঙ্গে, চিকিৎসক-পড়ুয়ারা যে কর্মবিরতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকেও সমর্থন করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আজ দুপুর একটায় ফের মামলার শুনানি, সেখানেই এ ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এদিন প্রাথমিক প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। ঘটনার পর ৭২ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, তাও কেন প্রিন্সিপালের বয়ান রেকর্ড করা হয়নি, তাই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, প্রিন্সিপাল পদত্যাগের চার ঘণ্টার মধ্যে তাকে অন্য একটি হাসপাতালে অধ্যক্ষ করে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ কে জারি করল, সেই নির্দেশ নামা এবং সন্দীপের পদত্যাগের কপিও দুপুর একটার মধ্যে দেখতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
এদিন আদালতে কথা ওঠে, আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরে প্রিন্সিপাল নিজেই ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্ত সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকায় আমি স্তম্ভিত!'
এদিন প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, 'কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। ওই প্রিন্সিপাল কি এতটাই প্রভাবশালী যে তাকে মাত্র ৪ ঘন্টার মধ্যে অন্য কলেজের প্রিন্সিপাল বানিয়ে দেওয়া হল?' এজলাসে উপস্থিত সন্দীপের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, 'আপনার উচিত এখনই বাড়িতে বসে থাকা। আপনি এতটাই প্রভাবশালী, যে আপনাকে চার ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার দেওয়া হল?'
আন্দোলনের মুখে গতকাল, সোমবার সকালেই পদত্যাগ করেছিলেন আরজি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু একবেলার মধ্যে, সোমবার বিকেলেই তাঁকে বহাল করা হয় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষর পদে। প্রতিবাদে খেপে ওঠেন সেখানকার পড়ুয়ারা। সন্দীপ ঘোষ বহাল হওয়ার খবর পেতেই হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁরা কোনওমতেই মানবেন না অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষকে।
আজ, মঙ্গলবারও সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন পড়ুয়ারা। অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত ঘরের সামনে অবস্থানেও বসে পড়েন অনেকে। স্লোগান ওঠে সন্দীপের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এর পরেও সন্দীপ ঘোষ কাজে যোগ দিতে এলে তাঁকে রুখতে ব্যারিকেড গড়ে প্রতিরোধ করবেন পড়ুয়া-চিকিৎসকরা।
পড়ুয়াদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে সোমবার সকালে স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছিলেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "আমি কোনও চাপের মুখে পদত্যাগ করছি না। আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার অভিঘাতে আমি বিপর্যস্ত। শুধু একজন শিক্ষক হিসেবে নয়, একজন বাবা হিসেবেও কিছুতেই এটা মানতে পারছি না।"
এর পরে বিকেলেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব বহাল করা হয় তাঁকে। এই বিজ্ঞপ্তি জারির পরেই আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের কুশপুতুল পোড়ান আন্দোলনরত ডাক্তাররা।
প্রসঙ্গত, গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন, "উনি (সন্দীপ ঘোষ) জানিয়েছেন, মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। আরজিকরের প্রিন্সিপালের পদ থেকে পদত্যাগ করতে চান। ওঁকে আমরা অন্য কোথাও পাঠাব।" তার পরেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে বহাল করা হয় তাঁকে। অন্যদিকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডাক্তার সুহৃতা পালকে।