তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র আরও বড়, এবং এর নেটওয়ার্ক ছড়ানো একাধিক রাজ্যে।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 09:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির এসি-তে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তা সারাতে গিয়েই সর্বস্বান্ত হতে হল। একটি সাধারণ সার্ভিসিং বুকিং, আর তার জেরেই এক মুহূর্তে খালি হয়ে গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ঘটনাটি বিরাটির, যেখানে এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শিকার হয়েছেন ভয়ঙ্কর সাইবার প্রতারণার।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম অভিষেক দাস। গরমে নাজেহাল হয়ে বাড়ির এসি সারানোর প্রয়োজন ছিল তাঁর। তাই তিনি ইন্টারনেটে খুঁজছিলেন কাছাকাছি কোনও এসি সার্ভিসিং সংস্থার নম্বর। সেখান থেকেই ডায়াল করেন এক নম্বরে - যেখানে দাবি করা হয়, তাঁরা এসি সার্ভিসিং করেন। খুব দ্রুত একজন টেকনিশিয়ান পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই এক অজানা নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে অনুরোধ করা হয় তাঁর লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে, যাতে টেকনিশিয়ান ঠিকানায় পৌঁছাতে পারেন। সন্দেহ না করে অভিষেক তা করেনও। ফোন রাখার আধঘণ্টার মধ্যে অভিষেক দাস লক্ষ্য করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে একের পর এক নয়টি ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা।
অভিষেকের অভিযোগ, “প্রথমে আমি নিজেই ফোন করেছিলাম নম্বর পেয়ে। তখন বলা হয়, ওঁরা এসি সার্ভিসিং করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। পরে দ্বিতীয় একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। সেখানেই আমাকে লাইভ লোকেশন দিতে বলা হয়। আমি দিই। এরপর আধঘণ্টার মধ্যেই আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যায়।”
অভিষেক এরপর বিষয়টি নিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় এবং বিধাননগর কমিশনারেট-এ লিখিত অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ চিহ্নিত করে, প্রতারণার ছক বসেছে বহু দূরে—উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া অঞ্চলে।
পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ে অভিযুক্ত দীপাংশু শ্রীবাস্তব, যিনি এই প্রতারণার মূলচক্রী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসে। এখন চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র আরও বড়, এবং এর নেটওয়ার্ক ছড়ানো একাধিক রাজ্যে।
এই ঘটনার পর সাইবার বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করছেন—
• ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যেকোনও সার্ভিস নম্বরে বিশ্বাস না করতে
• কোনও অবস্থাতেই লাইভ লোকেশন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করতে
• সন্দেহজনক লিংক বা অনুরোধ এড়িয়ে যেতে
আসলে, এখন আর প্রতারণা হচ্ছে না শুধু ওটিপি বা ব্যাঙ্ক লিংক দিয়ে, লাইভ লোকেশনও হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীদের নতুন হাতিয়ার। কীভাবে এই তথ্য ব্যবহার করে তারা কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, একে অপরাধীদের ‘নতুন ট্র্যাপ’ বলছেন তদন্তকারীরা।