মনোজিৎ গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূলের নাম জড়িয়েছে এই ঘটনায় কারণ তিনি শাসক দলের ছাত্র নেতা বলে জানা গেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 June 2025 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবায় ল কলেজের (Kasba Law College) ছাত্রীকে কলেজের মধ্যেই গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার (Arrest) হয়েছেন তিনজন। এঁদের মধ্যে একজন মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra)। যিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। আর বাকি দুজন বর্তমান পড়ুয়া। মনোজিৎ গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূলের নাম জড়িয়েছে এই ঘটনায় কারণ তিনি শাসক দলের ছাত্র নেতা বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধেই মূলত অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
বুধবার, ২৫ জুন রাতে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলেজের ছাত্রী। এরপরই তৎপর হয় পুলিশ। দ্রুত অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করে তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে রাত পর্যন্ত ধরা পড়ে একে একে তিনজন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিটের সভানেত্রী বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পদের লোভ দেখিয়েই কলেজের এক রুমে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়।
তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, পদ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন মনোজিৎ সহ বাকিরা। বুধবার দুপুরে কলেজে ঢোকার পর একাধিকবার তাঁকে মৌখিকভাবে হেনস্থা করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অভিযুক্তদের প্রস্তাবে রাজি না হলে সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁকে কলেজের একটি রুমে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি। অভিযোগ, মনোজিৎ যখন তাঁকে ধর্ষণ করছিলেন তখন অন্য দুই ছাত্র ঘরের দরজা পাহারা দিচ্ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ জুন সন্ধে ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে। ইতিমধ্যেই মনোজিতের শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে আরও বেড়েছে বিতর্ক।
গত বছরের অগস্ট মাসে কলকাতার আরজি হাসপাতালে এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল শহর, রাজ্য তথা দেশে। লাগাতার কয়েক মাস চলে আন্দোলন। বর্তমানে সেই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। কিন্তু তারপরও কসবার ঘটনায় এটা বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি বদলায়নি। নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।