ধৃত সিভিক প্রগতি ময়দান থানার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। যখন পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল, সেই সময় মদ্যপ ছিলেন অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার।

ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার
শেষ আপডেট: 24 May 2025 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের উর্দি চুরি করে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের (Civic Volunteer) বিরুদ্ধে। খাস কলকাতার কসবা এলাকায় (Kasba) এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত নীরজ সিংকে (Neeraj Singh) শুক্রবারই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার তাকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে (Jail Custody) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ ৬ জুন পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে তাকে।
ধৃত সিভিক প্রগতি ময়দান থানার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। যখন পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল, সেই সময় মদ্যপ ছিলেন অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে জানিয়েছে কসবা থানার পুলিশ। এরই মধ্যে তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নীরজের সঙ্গে আসিফ আলি নামে আরও একজনকে আটক করেছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধেও পুলিশের পরিচয় দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কসবার বাসিন্দারা ১০০ নম্বরে ডায়াল করে অভিযোগ করেছিলেন, একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার এলাকায় পুলিশের কনস্টেবলের উর্দি পরে লাগামছাড়া তোলাবাজি (Extortion) করছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কসবা থানার পুলিশ। তারপরই নীরজ সিং নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে আটক করে তারা। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন আদালতে নীরজের নামে আরও বড় অভিযোগ করেন আইনজীবী। দাবি করা হয়েছে, এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টাও করেন তিনি। পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, ধৃত দুজন ছাড়াও আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে এই ঘটনায়। কারণ এর আগেও নীরজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি রাজ্য সরকার এবং পুলিশকেই দায়ী করেছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, অনেক থানায় খোদ পুলিশের অনুমতিতে সিভিকরা উর্দি পরে ঘোরেন এবং তোলাবাজি করেন। চুরি করার কোনও ব্যাপার থাকে না। বিশেষ করে ভোটের সময় ভোটারদের ভয় দেখানো, কাউন্টিং সেন্টারে দাদাগিরির করার মতো কাজ তারা করেন।
সূত্রের খবর, নীরজ নিজে জেরায় স্বীকার করেছেন যে, আগেও তিনি পুলিশের পোশাক পরে দাদাগিরি করেছেন। অন্যদিকে তার সঙ্গী আসিফ সিভিল ড্রেসে পুলিশ পরিচয় দিতেন। গোটা বিষয় নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।