কসবা আইন কলেজের গার্ড রুমে আটকে রেখে নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণী নিজেও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মী।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 July 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজে (Kasba Law College) ধর্ষণ কাণ্ডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে বিদ্রোহের রাস্তায় হেঁটেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। শ্রীরামপুরে এক কর্মসূচিতে তিনি বলেছিলেন, “একজন রাজনৈতিক সহকর্মী যদি আরেক সহকর্মী মহিলার আস্থা, বিশ্বাস আর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে থাকে, এবং সেই দায়িত্বের বদলে তাঁকে ধর্ষণ করে— তাহলে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি কোনওভাবেই এটা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।”
রোববার ফের মুখ খুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। বললেন, "রক্ষকই ভক্ষকে পরিণত হলে কী হবে! জঘন্যতম অপরাধ, এদের ফাঁসি হওয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতারাই এমন করলে, মহিলারা রাজনীতিতে আসবেন কীভাবে?"
কল্যাণ আগেও বলেছিলেন, যাঁরা এমন জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাঁদের সঙ্গে দলীয় সম্পর্ক ত্যাগ করাই উচিত। তাঁর ভাষায়, “এমন মানসিকতার লোক আমাদের দলে থাকবে কেন? যদি দল থেকে বের করে দেওয়া হয়, মানুষ খুশিই হবে। বরং এরাই দলের বদনাম ডেকে আনছে।”
কসবা আইন কলেজের গার্ড রুমে আটকে রেখে নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণী নিজেও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মী। তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা আইনজীবী মনোজিৎ মিশ্র এবং কলেজের দুই বর্তমান পড়ুয়া জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার গ্রেফতার করা হয় কলেজের এক নিরাপত্তা রক্ষীকেও।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একদম প্রথম দিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো আছেই। কিন্তু যদি একজন বন্ধু তাঁর বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, সেখানে নিরাপত্তা কী করতে পারে?"
যদিও পরে নব্বই ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে উল্টো সুরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দেন কল্যাণ। শ্রীরামপুরের এক দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আইন না থাকলে এদের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গুলি করে মারা উচিত।