চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই দানা বাঁধে বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, কোনও নিয়ম না মেনেই কেবল আরজি কর আন্দোলনের মুখ হওয়ার কারণেই প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ওই তিন জন।

হাইকোর্টে জুনিয়র ডাক্তাররা।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেবাশিস হালদারের পর অনিকেত মাহাত (Aniket Mahato) এবং আসফাকুল্ল নাইয়া, এই দুই জুনিয়র চিকিৎসককেও বদলি করা হয়েছে। এই বদলি অস্বচ্ছ ও অনৈতিক-- এমনই দাবিতে এবার হাইকোর্টে গেলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার মেধাতালিকা প্রকাশ হতেই দানা বাঁধে বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, কোনও নিয়ম না মেনেই কেবল আরজি কর আন্দোলনের মুখ হওয়ার কারণেই প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ওই তিন জন। 'অস্বচ্ছ' বদলির প্রতিবাদে বুধবার স্বাস্থ্যভবনে অভিযোগপত্রও জমা দেন অনিকেত ও আসফাকুল্লা।
এবার গেলেন হাইকোর্টে। রুজু করলেন মামলা। জানা গেছে, বদলির নির্দেশ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একক বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আসফাক আর দেবাশীষ। আদালত আবেদন গ্রহণ করে।
আরজি করে (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনে যে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার অন্যতম মুখ ছিলেন দেবাশিস হালদার, অনিকেত মাহাত, আসফাকুল্লা নাইয়া (Asfakulla Naiya)। এঁদের মধ্যে দেবাশিস হালদারকে আগেই হাওড়া জেলা হাসপাতাল থেকে বদলি করা হয়েছে মালদহের গাজোলে। এবার অনিকেত মাহাতকে রায়গঞ্জ এবং আসফাকুল্লাকে পুরুলিয়ায় বদলি করা হয়েছে।
পিজিটি থেকেএবার সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করবেন অনিকেত ও আসফাকুল্লা। সেইমতোই পোস্টিং কাউন্সিলিং হয়। সেখানে অনিকেত ও আসফাকুল্লার পোস্টিং ছিল যথাক্রমে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু মেধাতালিকা প্রকাশ হওয়ার পরই পুরো ছবিটাই পাল্টে যায়। গোটা ঘটনায় আইনি সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
নতুন পোস্টিংয়ের ইস্যুতে ইতিমধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর ফ্রন্ট। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই দেবাশিসদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মিলিয়ে তিনদিনে ৭৭৮ জনের কাউন্সিলিং হয়েছিল। কারও সেভাবে বদলি হয়নি। তবে এই তিনজনের করা হয়েছে। সর্বপ্রথম দেবাশিসের পোস্টিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তারপর দেখা যায়, বাকি দুজনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
আসফাকুল্লার কথায়, এর আগে তাঁদের অনেকের নামে এফআইআর করা হয়েছে, গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদতে তাঁদের দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে ভয় দেখিয়ে এখন বদলি করে দিয়ে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এইভাবে কোনও আন্দোলন দমিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি এও বলেন, তাঁরা তিনজন চলে গেলেই যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবেন না, এমনটা নয়। যে অন্যায় হয়েছে তার প্রতিবাদ করতেই হবে এবং যারা থাকবেন তারাই করবেন।
বদলি ইস্যুতে কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যে। স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গেও দেখা করতে স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন অনিকেত, দেবাশিস, আসফাকুল্লারা। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে দেখা না করেই বেরিয়ে যান স্বাস্থ্যসচিব। এরপরই স্বাস্থ্যভবনের ভিতরেই মূল গেটের সামনে অবস্থানে বসেছিল তাঁরা।
স্বাস্থ্যভবনের বক্তব্য, প্রতিহিংসার কোনও জায়গা নেই। যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা একেবারেই ঠিক নয়। সরকারের তরফে সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তারদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কারও যদি কোনও আপত্তি থাকে তাহলে লিখিতভাবে জানাতে হবে।