দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণও জানা গেছে। এর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মোমোর গুদাম। ধৃত ডেকরেটর্সের মালিক গঙ্গাধর দাস দাবি করছিলেন, আগুন মোমোর গুদাম থেকেই শুরু হয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 January 2026 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire Incident) নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদের মধ্যে একটি দেহ আধপোড়া অবস্থায় এবং বাকি ২০টি কঙ্কাল। অগ্নিকাণ্ডের পর ২৮ জন নিখোঁজ হিসেবে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলি আশঙ্কা করছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন দেহাংশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের (DNA Mapping) কাজ শুরু হয়েছে, যা পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগার কারণও জানা গেছে। এর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মোমোর গুদাম (WOW Momo Factory)। ধৃত ডেকরেটর্সের মালিক গঙ্গাধর দাস দাবি করছিলেন, আগুন মোমোর গুদাম থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে ফরেন্সিক ও দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রকৃত আগুনের উৎস ছিল ডেকরেটর্সের গুদামই। ওই গুদামের পশ্চিম দিকে তিন তলা বিশিষ্ট অংশ থেকে আগুন ছড়াতে ছড়াতে পুরো ডেকরেটর্স এবং মোমোর গুদাম গ্রাস করে নেয়।
গঙ্গাধরের ‘দখলে’ থাকা গোডাউনের আয়তন ছিল ৩৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে ১১ হাজার বর্গফুট মোমো কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মালিক দাবি করেছিলেন, মোমো গুদামে অবৈধভাবে Co2 দিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরির কারণে আগুন লেগেছে। তবে ফরেন্সিক রিপোর্ট সেই দাবি মিথ্যে প্রমাণ করেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, গোডাউনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই ত্রুটির জন্যই মালিক গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে বুধবার মধ্যরাত থেকে নাজিরাবাদ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-র আবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে সেই ঘোষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়াও মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স সংস্থা ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেও জানান তিনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে। পুলিশকে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।