পশ্চিমবঙ্গে বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে কমিশন আদৌ কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 30 January 2026 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের দিন (West Bengal Election Commission) লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ন্যূনতম সুবিধা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। রাজ্যের বহু ভোটকেন্দ্রে এখনও বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচালয় বা র্যাম্পের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে— এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী, তা স্পষ্ট ভাবে জানতে চাইল আদালত। পশ্চিমবঙ্গে বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে কমিশন আদৌ কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে চলছে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি। মামলাকারী বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya BJP) আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, রাজ্যের বহু ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নেই। ভোটের দিন সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে নানাবিধ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো কেমন অবস্থায় রয়েছে, তা নজরে রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই। কোন বুথে কী ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের বুথগুলির উন্নয়নে কমিশন কী করেছে, কী পদক্ষেপ নিয়েছে— তা লিখিত ভাবে আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।
কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। এক সপ্তাহ পরে মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচালয় এবং প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভোটারদের জন্য র্যাম্প থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে রাজ্যের বহু বুথে এই ন্যূনতম সুবিধাগুলির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এর আগে বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের সংস্থা ম্যাকিনটোশ বার্নকে দিয়েছিল কমিশন। তবে সেই সংস্থা মাঝপথে কাজ থেকে সরে দাঁড়ায়। মামলাকারীর দাবি, সংস্থাটি মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। ফলে এখনও বহু ভোটকেন্দ্রের অবস্থা বেহাল।
বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার মুখে এই পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, সময় থাকতে বুথগুলির পরিকাঠামো উন্নত না হলে ভোটারদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
যদিও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ নির্বাচন কমিশন সরাসরি করে না। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে রাজ্য সরকার বা তাদের অধীন সংস্থার মাধ্যমে কাজ করানোই কমিশনের ভূমিকা। আপাতত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধেই মন্তব্য করতে চায় না হাইকোর্ট। কমিশনের লিখিত বক্তব্য পাওয়ার পর সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।