ক্ষুব্ধ ফিরহাদ এও বলেন, "কেন্দ্র একটা টাকাও দেয় না। পাম্পিং স্টেশন করতে প্রচুর টাকা লাগে। মনে রাখবেন, আমরা ম্যাজিক জানি না, তবু সীমিত ক্ষমতার মধ্যে যথাসম্ভব কাজ করা হচ্ছে।"

ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 25 July 2025 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার জল জমা (Water Logging,) থেকে শুরু করে রাস্তা সংস্কার, হোর্ডিং নীতি, ভোটার তালিকা (Voter List), একাধিক বিষয়ে বলতে গিয়ে বিজেপিকে (BJP) কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক ইস্যুতে সরাসরি অভিযোগ তুললেন তিনি। মেয়রের দাবি, ‘‘ছবি তুলে ক্ষমতা পাওয়া যাবে না। বিজেপির মিথ্যে প্রচার বন্ধ হোক।’’
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শুক্রবার শহরের বহু এলাকার রাস্তা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান জল। এ প্রসঙ্গে মেয়রের দাবি, ‘‘কলকাতায় পাঁচ ঘণ্টা বাদে জল থাকেই না। সুরাটে পাঁচ দিন জল জমে, দিল্লিতেও তাই। আর বিজেপি ছবি তুলে জল জমা দেখিয়ে প্রচার করছে। কিন্তু বাস্তবে জল নামছে। আমাদের দায়িত্ব শুধু ছবি দেখানো নয়, বাস্তবে কাজ করা। আর সেই কাজটাই আমরা করছি।’’
ক্ষুব্ধ ফিরহাদ এও বলেন, "কেন্দ্র একটা টাকাও দেয় না। পাম্পিং স্টেশন করতে প্রচুর টাকা লাগে। মনে রাখবেন, আমরা ম্যাজিক জানি না, তবু সীমিত ক্ষমতার মধ্যে যথাসম্ভব কাজ করা হচ্ছে।" এ প্রসঙ্গে মনে করিয়েছেন, যে এবারে পাতিপুকুর আন্ডারপাসে জল দাঁড়ায়নি।
ফিরহাদ বলেন, যেসব এলাকায় বারবার জল জমে, সেখানে পেভার ব্লক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রাই স্পট পেলেই মেরামতির নির্দেশ। এছাড়াও তারাতলা, গড়াগাছা, বন্দর এলাকা, এসব জায়গায় জল নিকাশি নেই, পোর্ট ট্রাস্টকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে শহরে বিজ্ঞাপন নীতিতে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে বলেও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি জানান, শহরের মূল মোড়গুলির ১৫ মিটারের মধ্যে কোনও হোর্ডিং বসানো যাবে না। ‘মনোপল হোর্ডিং’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মেট্রো-সহ অন্যান্য সংস্থাগুলিকে বিজ্ঞাপনের ৫০% অংশ পুরসভার মারফত করতে হবে। হেরিটেজ ভবনে কোনও বিজ্ঞাপন নয়। ফ্লেক্সের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যানার ব্যবহারের নির্দেশ। উৎসবের সময় ক্লাবগুলিকে হোর্ডিংয়ে নিজেদের নাম রাখতে হবে।
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভোটার তালিকায় নাম কাটা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গেও। ফিরহাদ বলেন, ‘‘মহারাষ্ট্র বা দিল্লির মতো বাংলাতেও ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে নির্বাচনে জেতার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। এটা ওদের পুরনো খেলা। কিন্তু আমরা ওদের নাম কেটে নিতে দেব না। এই লড়াই সাধারণ ভোটারদের অধিকারের জন্য।’’
মেয়র জানান, মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে, ‘‘একজন মানুষও যাতে অন্যায় ভাবে বাদ না যায়, সেটা নিশ্চিত করব।"
পার্কিং ও হোর্ডিং মাফিয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে মেয়র বলেন, ‘‘পার্কিং ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে অ্যাপ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্কিং মাফিয়া বা অ্যাডভার্টাইজিং মাফিয়াদের বরদাস্ত করা হবে না।’’
বৃহস্পতিবার বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন, বাংলার ভোটার লিস্ট থেকে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ গেলে তৃণমূল ৭০টা আসনেও জিততে পারবে না। এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ‘‘তৃণমূলকে হারানোর ক্ষমতা কারও নেই। বিজেপি ২৫টা আসনও পাবে না।"