দুর্গা পুজো ২০২৫-এ বেহালার সেরা ৫টি পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখতেই হবে। কী বিশেষত্ব, কেন এই মণ্ডপগুলি আপনার লিস্টে থাকা উচিত, জেনে নিন বিস্তারিত।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 September 2025 18:15
মাস আর্টের দৌলতে দুর্গাপুজো পরিক্রমা শুরু আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই। শিল্পের কদর করতে, শিল্পীকে সম্মান জানাতে অনেকেই আগামিকাল থেকে প্যান্ডেল হপিং শুরু করবেন। আবার অনেকে শুরু করবেন মহালয়ার পর থেকে। বলতে গেলে দুর্গাপুজো আর এখন পাঁচদিনে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যায় দ্বিতীয়া-তৃতীয়া থেকেই। উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্ল্যান তৈরি প্রায় শেষ। তাতেই অ্যাড করে নিন বেহালার বিখ্যাত পুজোগুলিও।
এবার চোখ ধাঁধানো থিম আর গল্প নিয়ে হাজির হয়েছে বেশ কয়েকটি পুজো। মিস করা যাবে না একটিও। লিস্ট রইল দ্য ওয়ালে।
বেহালার অন্যতম বিখ্যাত পুজো কমিটি বড়িশা ক্লাব। বহু বছর ধরে নানা নামী শিল্পী কাজ করছেন। আগে সৃষ্টি ও সহযাত্রী নামে দুটি ক্লাবে বিভক্ত ছিল তারা। বেশ কয়েকবছর ধরে বড়িশা ক্লাব নামে দুর্দান্ত থিমের পুজো করে আসছেন। মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকদের গল্প বলে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিল এই ক্লাব। বেহালা সখেরবাজারের বড়িশা ক্লাবের এবারের থিম 'শূন্য পৃথিবী।' দুর্গা মায়ের আগমনে মণ্ডপ সাজাচ্ছেন শিল্পী মানস দাস। শূন্য পৃথিবীতে নানা প্রশ্ন নিয়ে হাজির হোন আপনারা এবার পুজোয়। উত্তরের জন্য তৈরি আস্ত পুজো মণ্ডপ।
সখেরবাজার থেকে ডায়মন্ড পার্কের দিকে একটু এগোলেই ডায়মন্ড হারবার রোডের ওপর চোখে পড়বে প্রত্নতত্ত্ব কথা। ইতিহাস অন্বেষণে 'ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক।' বলছে মোগলমারির গল্প। ইতিহাস অনুযায়ী, মোগলমারি মূলত একটি বৌদ্ধ শিক্ষা ও সাধনার কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি ঐতিহাসিক স্থান। যেখানে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। খনন করে স্তূপ, বৌদ্ধ মঠ এবং বিভিন্ন ভাস্কর্যের অবশিষ্টাংশ মিলেছে। যা গুপ্ত যুগ থেকে পাল যুগ পর্যন্ত বৌদ্ধ সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ধারার প্রমাণ বহন করে।
শিল্পী রাজু সরকারের হাতে সেজেছে মণ্ডপ। কী কী পাওয়া গেছে, কেমন তা দেখতে, কী তার ইতিহাস, সব জানা যাবে এসবি পার্কের পুজোয় আসলেই।
ডায়মন্ড হারবার রোড থেকে বেহালা হয়ে নিউ আলিপুরের দিকে যেতে পড়বে 'বেহালা নতুন দল।' এবারের থিম শিবানী ধাম। কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের অনেকেই দাবি করছেন, এবার এটিই বেহালার সবচেয়ে বড় প্যান্ডেল। অনেকে আবার বলছেন, সিনেমার সেটের চেয়ে কিছু কম নয়। মণ্ডপ সাজাচ্ছেন বিখ্যাত শিল্পী অমর সরকার, রণো ব্যানার্জি। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য ও অরিঘ্ন সাহা।
ইনস্টাগ্রামের জন্য ছবি হোক বা সেলফি। এই পুজো মণ্ডপে না আসলে কিন্তু বড় মিস।
দুর্গা পুজো মানেই আড্ডা, গল্প, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো বা দূরে থাকা মানুষদের সঙ্গে মিলিত হওয়া। মোবাইলে চোখ রাখা জীবন দূরে রেখে ৮১ বছরে সেই আড্ডাকেই ফিরিয়ে এনেছে 'বেহালা ক্লাব।' এবছরে তাদের থিম 'মনচাষ।' চায়ের দোকান থেকে নন্দনের আড্ডা, গঙ্গার ঘাট থেকে কফি হাউসের ধোঁয়া ওঠা চায়ের স্মৃতি ধরা পড়বে পুজো মণ্ডপে।
শিল্পী কৃষাণু পালের হাতে সাজছে বেহালা থানার চত্বরের এই বিখ্যাত পুজো।
বেহালা এলে যেটা একেবারেই মিস করা চলবে না, সেটা হল 'বড়িশা সার্বজনীনে'র পুজো। তাদের এবারের থিম 'স্বর্গ-মর্ত-পৃথিবী।' শংকরের লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে থিম সাজানো কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও থিম নিয়ে মানুষের মনে কৌতুহল রয়েছে, তা মণ্ডপ চত্বরে গেলেই বোঝা যাবে। বড়িশা ক্লাবের ঠিক উল্টো দিকে কে কে রায় চৌধুরি রোডের এই পুজো এবার থাকুক আপনার বাকেট লিস্টে।
মণ্ডপ সাজাচ্ছেন শিল্পী তপন কুমার শেঠ। তাঁর কাজ, ভাবনা, কারিগরী আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
কোন মণ্ডপে কীভাবে পৌঁছবেন?