
বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ।
শেষ আপডেট: 3 September 2024 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। কিন্তু ধর্ষণ-খুনের মামলায় এখনও সঞ্জয় রায় ছাড়া আর কারও টিকি ছুঁতে পারেনি সিবিআই। এই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার মা-বাবা জানিয়েছেন, 'মেয়ে দুর্নীতির বলি হয়েছে। আরও যারা জড়িত আছে তারাও গ্রেফতার হোক। যেদিন এদের সবার ফাঁসি হবে, সেদিন মনের আশা কিছুটা পূরণ হবে।'
এবার মেয়ের সঙ্গে ঘটা অপরাধীদের দ্রুত ধরার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ দেশের বিশিষ্টজনদের চিঠি লিখলেন নিহত চিকিৎসকের মা। সে চিঠির বয়ান প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে।
নির্যাতিতার মা লিখেছেন, ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর মেয়ের। তাঁর অসহায় প্রশ্ন, 'সেই অপরাধেই কি এমন নির্মম, নিষ্ঠুর, পৈশাচিক ঘটনা ঘটল মেয়ের সঙ্গে? তাঁর স্বপ্নগুলোকে গলা টিপে হত্যা করা হল? যে বা যারা এই ঘটনা ঘটাল, তাঁদের আড়াল করার জন্য, সব তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হল?'
নিহত চিকিৎসকের মা চিঠিতে স্পষ্ট করে লিখেছেন, ওই রাতে সওয়া ১১টায় তাঁর সঙ্গে মেয়ের কথা হয়, স্বাভাবিক কথা বলেছিলেন মেয়ে। সকালেই আসে দুঃসংবাদ। তাঁর অভিযোগ, 'যা-ই ঘটুক না কেন, মা-বাবা হিসেবে তো আমাদের জানানো উচিত ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ওঁদের দায়িত্বেই তো আমরা মেয়েটাকে ওখানে পাঠিয়েছিলাম।'
মা লিখেছেন, 'আমাদের কাছে হাসপাতাল থেকে প্রথম ফোন আসে সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে। বলা হয়, আপনাদের মেয়ে অসুস্থ। আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসুন। আমরা তড়িঘড়ি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। যেতে যেতে আবার ফোন আসে, বলা হয় মেয়ে সুইসাইড করেছে। আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসুন। আমাদের তো তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা।'
কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেও মেয়েকে দেখতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। এই অভিযোগ প্রথম থেকেই করে আসছেন তাঁরা। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, 'এক জন নিরাপত্তাকর্মী আমাদের চেস্ট মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যান। আমরা তখন মেয়েকে দেখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। সেমিনার রুম-এর ভিতরে তখন অনেক লোকজন। এক জন পুলিশকর্মী দরজা আটকে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি হাতেপায়ে ধরে বলি, মেয়েকে একবার দেখতে দিন। তাঁরা বলেন, ফরেন্সিক তদন্ত চলছে, ঢুকতে দেওয়া যাবে না। আমি বলি, আমি কিছু করব না, মুখটা দেখে চলে আসব। তা-ও দেখতে দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ এসে ঘটনা নিয়ে কোনও আলোচনাই করেননি আমাদের সঙ্গে। অবশেষে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরে আমাদের সেমিনার রুম-এ ঢুকতে দেওয়া হয়।'
নির্যাতিতার মায়ের দাবি, 'মেয়ের দেহ দেখে আমাদের মনে হয়, পুরো ঘটনা সাজিয়েগুছিয়ে আমাদের দেখানো হচ্ছে। কারণ, এমন পৈশাচিক ঘটনার পরে সব কিছু এমন সাজানো থাকতে পারে না। অপরাধ যেখানে হয়েছে, সেই জায়গা ঘেরা ছিল না।'
শুধু তাই নয়, তিনি আরও লিখেছেন, 'আমরা মেয়ের দেহ রেখে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ এবং প্রশাসনের অতিসক্রিয়তার কারণে সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। যতক্ষণ মেয়ের দেহ চুল্লিতে প্রবেশ করানো না হয়, ততক্ষণ পুলিশি সক্রিয়তা বজায় ছিল, তার পরে আর কাউকেই দেখতে পাওয়া যায়নি।'
পাশাপাশি তাঁর বুকফাটা আক্ষেপ, 'কেন এমনটা হল আমাদের মেয়েটার সঙ্গে? ও তো ডিউটিতে ছিল, একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। মানুষের সেবা করতে গিয়ে নিজের জীবন এবং নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন-- সব কিছু দুর্বৃত্তের হাতে বলি হয়ে গেল। এই দুর্বৃত্তেরা হাসপাতালের ভিতরের লোক। কারণ, বাইরে থেকে কেউ এসে এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারে না।'
সবশেষে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কাতর প্রার্থনা করেছেন তিনি। বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। তবেই তাঁর মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবেই তাঁদের একমাত্র মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা সামান্য লাঘব হবে।