ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 January 2025 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর পর্বে দেখা গিয়েছিল, বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক কলকাতায় এসে প্রতিবাদে সামিল। শুধু তা নয়, তিনি কলকাতায় প্র্যাকটিসও করেন। আবার এও আকছার দেখা যায় যে এসএসকেএম বা আরজি কর মেডিকেল কলেজের অনেক চিকিৎসক দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলায় গিয়ে সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন চেম্বার করেন।
কিন্তু সোমবার নবান্ন পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিল, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল এডুকেশন বা হেল্থ সার্ভিসে কর্মরত কোনও চিকিৎসক তাঁর কর্মস্থল থেকে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। অর্থাৎ কলকাতার কোনও মেডিকেল কলেজের টিচিং ফ্যাকালটি বা ডাক্তারবাবু শহর থেকে ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে চেম্বার করতে পারবেন না। কিংবা কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
এমন নয় যে এই নিয়ম নতুন। বাম জমানা থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহু ডাক্তার প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। সরকারি হাসপাতালে যতটা সময় দেওয়ার কথা অনেকেই তা দেন না বা ফাঁকিবাজি করেন বলেও অভিযোগ। প্রথামতো নবান্ন পুরনো বিজ্ঞপ্তি ফের প্রকাশ করেছে। বলা যেতে পারে, পুরনো নিয়ম পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে।
তবে অনেকে মনে করছেন, আরজি কর পর্বের প্রেক্ষিতে এই বিজ্ঞপ্তি নতুন প্রাসঙ্গিকতা পেল। কারণ, আরজি কর পর্বে এক শ্রেণির চিকিৎসকের আচরণে অসন্তুষ্ট ছিল সরকার। নবান্নের অনেক কর্তা মনে করছিলেন, একাংশ চিকিৎসক অনিয়ম করে বেড়াচ্ছেন, অথচ সরকারের উদ্দেশে ‘লেকচার’ দিচ্ছেন। সুতরাং তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে যে সরকারি বিধি নিষেধ রয়েছে, তা এবার কঠোর হাতে বাস্তবায়ণ করা জরুরি।
২০০৬ এবং ২০১১ সালের হেল্থ সার্ভিস রুলে রয়েছে, কোনও চিকিৎসক নন প্র্যাকটিস অ্যালাওয়েন্স না নিলে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন। সেজন্য তাঁকে অনুমতি নিতে হবে। সেই আবেদন কীভাবে জানাতে হবে, তাও এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে দেখার এ যাত্রায় সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও ডাক্তাররা তা কতটা মেনে চলেন।