বাঘাযতীন থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত মিছিল শুভেন্দু অধিকারীর
শেষ আপডেট: 30 November 2024 20:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর আক্রমণ কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর লাগাতার আক্রমণ এবং বাংলাদেশের সনাতন জাগরণ মঞ্চের অন্যতম মুখ সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শনিবার ফের শহরের রাস্তায় মিছিল করল বিজেপি।
এদিন সন্ধেয় বাঘাযতীন মোড় থেকে যাদবপুর এইট বি পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেত্রী রেখা পাত্র।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবিতে সরব হয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর আক্রমণ কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। ভারতীয় জনতা পার্টি ও আরএসএস সবসময় তাঁদের পাশে আছে।’ পাশাপাশি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের জন্য ইউনুস সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দুর দাবি, ‘এভাবে বেশিদিন ওঁকে আটকে রাখা যাবে না। হিন্দুদের উপর আক্রমণ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এদিনের মিছিলে শয়ে শয়ে বিজেপি ও বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমর্থকদের যোগ দিতে দেখা যায়। বাংলাদেশ সরকার দেশদ্রোহিতার ধারায় মামলা ঠুকে গ্রেফতার করেছে ৩৮ বছর বয়সি সাধু ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রতিষ্ঠানের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের জোরাল অভিযোগ সামনে এসেছে।
গত বুধবারই বিধানসভা থেকে বিজেপি বিধায়কেরা গিয়েছিলেন কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই-কমিশনারের দফতরে। রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত বাসে গিয়ে সেখান থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মিছিল করে ডেপুটি হাই-কমিশনে পৌঁছে যান বিজেপি বিধায়কেরা। বিরোধী নেতা-সহ ৮ জন বিধায়ককে ডেপুটি হাই-কমিশনের ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
পরে দাবিপত্র দিয়ে বেরিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ‘‘চিন্ময় প্রভু কোনও অপরাধ করেননি। কোনও অপরাধ আদালতে প্রমাণ হয়নি। তার পরেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে। ডেপুটি হাই-কমিশনার আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। আমাদের পরামর্শ নিয়েছেন। আমরা উদ্বেগ ব্যক্ত করেছি। ওঁরা দিল্লির দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে ওঁদের দেশের বিদেশ দফতরে জানাবেন।’’
এরপর বৃহস্পতিবার পথে নেমেছিল হিন্দু সমাজ। বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে যে মিছিলেন আয়োজন করা হয়েছিল তা পৌঁছয় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের অফিস পর্যন্ত। পরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় তাঁদের। বেশ কয়েকজন আহতও হন বলে খবর।
পাশাপাশি বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে আগামী ২ ডিসেম্বর বিক্ষোভ-জমায়েতেরও ডাক দিয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রবিবারের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না-হলে পেট্রাপোল সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দেওয়া হবে।
মহম্মদ ইউনুস সরকারের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের তুলনা করে বিরোধী দেলনেতার অভিযোগ, ‘বাংলাদেশের মতো একই হাল পশ্চিমবঙ্গের। সেখানেও হিন্দুদের উপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে। হিন্দুদের উপর অত্যাচার কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। হিন্দুদের একজোট হয়ে এর প্রতিবাদ করতে হবে।’
অতএব বাংলাদেশের অশান্তির আঁচ থেকে এপার বাংলাও যে বাদ যায়নি তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হলে এবং বাংলাদেশের সনাতন জাগরণ মঞ্চের অন্যতম মুখকে অবিলম্বে মুক্তি না দেওয়া হলে পরিণতি যে আরও ভয়াবহ হবে এদিন কলকাতার মিছিল থেকে সেই হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা।